গাইবান্ধায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল সাপুড়ের
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে পাতা খেলার জন্য বিষধর সাপ প্রশিক্ষণ দিতে গিয়ে সাপের ছোবলে আজাদুল ইসলাম ঘুটু (৩০) নামের এক সাপুড়ের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে সাপের কামড়ে অসুস্থ হওয়ার পর প্রথমে ওঝার কাছে নেওয়া হলে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে রাতে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আজাদুল ইসলাম উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের তরফকামাল শিয়ালগাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকায় পাতা খেলায় সাপ প্রদর্শন করতেন এবং সাম্প্রতিক সময়ে কলাগাছে সাপ পেঁচিয়ে খেলা দেখাতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৪ আগষ্ট) উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের আসাদ মোড়ে ঐতিহ্যবাহী পাতা খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই খেলায় দর্শকদের চমক দিতে সোমবার বিকেলে কোচাশহর এলাকা থেকে একটি নতুন বিষধর সাপ ধরেন আজাদুল। পরে সাপটিকে প্রদর্শনের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।
প্রশিক্ষণের একপর্যায়ে সাপটি হঠাৎ তাকে দংশন করে। এতে তিনি দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বিষ নামানোর উদ্দেশ্যে জয়পুর হাটের কালাইয়ের শিবসমুদ্র এলাকায় এক ওঝার কাছে নিয়ে যান। সেখানে ঝাড়ফুঁক চলাকালীন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার হেদায়েতুল ইসলাম জানান, সাপে কাটা রোগীকে হাসপাতালে আনার অনেক আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিলো। তিনি আরও বলেন, সাপে কামড়ের রোগীকে দংশনের সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতালে নেওয়া উচিত। বিকেলে সাপে কামড়ের পর রোগীকে প্রথমে ওঝার কাছে নেওয়া হয়েছিলো, যা সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল না।
এলাকাবাসী জানান, কয়েক দিন ধরে পাতা খেলা উপলক্ষে নতুন সাপটি নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আজাদুল। মঙ্গলবারের আসরে দর্শকদের চমক দিতেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সাপুড়ের এ মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বিষধর সাপের ছোবলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতার আহ্বান জানিয়েছেন।