৩১ জুলাই ২০২৬, ২১:৫৭

কুয়াকাটায় জেলের জালে ধরা পড়ল ২৮ কেজি টুনা মাছ, ৪০ হাজার টাকায় বিক্রি

জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ‘ইয়েলোফিন টুনা’ মাছ  © টিডিসি ফটো

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর বঙ্গোপসাগরে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি ‘ইয়েলোফিন টুনা’ মাছ, যা স্থানীয়ভাবে ‘হলুদ পাখনা টুনা’ নামে পরিচিত। ২৮ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের সামুদ্রিক মাছটি বিক্রি হয়েছে ৪০ হাজার ৪৬০ টাকায়।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে আলিপুর মৎস্য বন্দরের ‘মেসার্স মনি ফিশ’ আড়তে মাছটি আনা হলে ডাকের মাধ্যমে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে কিনে নেন স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন।

জানা গেছে, দুই দিন আগে বঙ্গোপসাগরের পায়রা বন্দর সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে ‘এফবি সজীব’ ট্রলার নিয়ে মাছ ধরতে যান জেলে জীবন মাঝি। জাল তোলার সময় বিশাল আকারের এই মাছটি ধরা পড়ে। উপকূলে সচরাচর এ মাছের দেখা না মেলায় সকালে বন্দরের আড়তে এটি দেখতে উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

মাছটি দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের মাছ আমরা সচরাচর দেখি না। আকার, রঙ ও গঠন দেখে অনেকেই অবাক হয়েছেন। তাই কৌতূহল থেকেই মাছটি একনজর দেখতে এসেছি।’

ট্রলারের মাঝি জীবন বলেন, ‘জাল তোলার পর এত বড় ও ভিন্নরকম মাছ দেখে আমরা অবাক হয়ে যাই। পরে বুঝতে পারি এটি সাধারণ কোনো মাছ নয়। এমন দুর্লভ মাছ পেয়ে আমাদের পুরো ট্রলারের জেলেরা অনেক খুশি।’

ক্রেতা ও মৎস্য ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ইয়েলোফিন টুনার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ভালো মানের হওয়ায় সঠিক দাম দিয়েই তিনি মাছটি কিনেছেন এবং ভালো লাভে বিক্রির উদ্দেশ্যে এটি ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েলোফিন টুনার বৈজ্ঞানিক নাম ‘Thunnus albacares’। পিঠ ও পেটের দিকের দীর্ঘ পাখনা এবং লেজের পাশের ফিনলেটগুলো উজ্জ্বল হলুদ রঙের হওয়ায় এটি সহজেই চেনা যায়। টর্পেডোর মতো শক্তিশালী দেহগঠনের কারণে এটি সমুদ্রে দ্রুতগতিতে সাঁতার কাটতে পারে।

ওয়ার্ল্ডফিশ ও ডব্লিউসিএস-এর ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, ইয়েলোফিন টুনা একটি উচ্চমাত্রায় পরিযায়ী পেলাজিক মাছ। বিশ্বের উষ্ণ ও উপ-উষ্ণমণ্ডলীয় সমুদ্রে এদের দেখা মেলে। বাংলাদেশে প্রধানত বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্র এবং সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড এলাকায় এদের বিচরণ রয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘গভীর সমুদ্রে এ ধরনের মাছ পাওয়া অস্বাভাবিক নয়, তবে উপকূলের কাছাকাছি ধরা পড়াটা বেশ বিরল। জেলেদের জালে এমন মূল্যবান মাছ পাওয়া উপকূলীয় অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমাদের টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে হবে।’