৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫:১৭

জামালপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৬

হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন আহত একজন  © সংগৃহীত

জামালপুরের মেলান্দহে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দী বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আহতরা হলেন মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল্লাহ, বিএনপি কর্মী জাকির হোসেন। ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আলতাফুর রহমান, ওর্য়াড বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদের ভাই মো. বেলাল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মো. সোলায়মান, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য হাজী আবদুস সাত্তার। 

স্থানীয়রা জানান, মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তৈয়বুর রহমান মাস্টার ও বিএনপি নেতা রুনু তালুকদারের অনুসারীদের মধ্যে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রুনু তালুকদারের সমর্থকদের একটি নির্বাচনী গণসংযোগ ও মিছিল শেষে চর গোবিন্দী বাজার এলাকায় একটি বহর পৌছালে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। ওই সময় উসকানিমূলক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

গতকালের রাতের ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে গেলে দুই পক্ষ আবারও মুখোমুখি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ৬জন আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কয়েকজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এ বিষয়ে মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তৈয়বুর রহমান মাস্টার বলেন, ‘আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। মঙ্গলবার রাতেই ঘটনার শুরু হয়। রুনু তালুকদারসহ তাদের লোকজন সেখানে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেছে। আজও তারা হট্টগোল শুরু করেছে বলে খবর পেয়েছি। আমি দলের নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছি এবং পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি, যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।’

ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুবুর রশিদ বাবুল মুঠোফোনে বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকেলে মিছিল শেষে রুনু তালুকদারের সমর্থকরা চর গোবিন্দী এলাকায় ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিল্লুর বাড়ির পাশে এক দোকানে বসে অন্য পক্ষের সর্মথক যুবদল নেতা রাজ্জাকসহ কয়েকজনকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে ধর ধর বলে চিৎকার করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বুধবার এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আমরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরে আলম তালুকদার রুনু বলেন, ‘তাদের অভিযোগ মিথ্যা। মূলত ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জিল্লুর রহমানসহ আমার সমর্থকেরা মঙ্গলবার রাতে চর গোবিন্দী বাজারে বসে ছিলেন। এ সময় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও যুবদল নেতা রাজ্জাক মদ্যপ অবস্থায় সেখানে এসে ‘এখানে কোনো রাজনীতি চলবে না’ বলে হট্টগোল শুরু করেন। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বুধবারও তারাই প্রথমে হামলা ও মারামারি শুরু করে। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম মাহমুদুল হক বলেন, ‘ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাতে। বুধবার বিকেলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জেনেছি। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’