৩০ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১

রুটিতে পাওয়া সেই ব্লেড ছিল ‘ছাত্রীর ব্যাগে’, যাচাই না করে ছবি দেওয়ায় প্রাথমিক শিক্ষক বরখাস্ত

মিড-ডে মিলের বানরুটিতে ব্লেড পাওয়া অভিযোগ উঠেছিল।  © সংগৃহীত ও টিডিসি সম্পাদিত

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের বানরুটিতে ব্লেড পাওয়ার অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় এবং বিষয়টি যাচাই না করেই ব্লেডসহ রুটির ছবি মেসেঞ্জার গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীমের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

ইউএনও মো. ইব্রাহীম জানান, তদন্তে রুটি প্রস্তুতকারী কারখানা পরিদর্শন ও উৎপাদন প্রক্রিয়া যাচাই করে দেখা গেছে, রুটি তৈরির সময় অক্ষত একটি ব্লেড ভেতরে চলে যাওয়ার সুযোগ নেই। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে তদন্ত দল জানতে পারে, ব্লেডটি ওই ছাত্রীর ব্যাগে ছিল। স্কুলে ব্লেড আনা নিষিদ্ধ হওয়ায় শিক্ষিকার বকুনি বা শাস্তির ভয়ে সে সেটি রুটির মধ্যে লুকিয়ে রাখে।

তিনি আরও বলেন, রুটির প্যাকেট খোলার সময় পাশের এক ছাত্রী ব্লেডটি দেখতে পায়। বিষয়টি শিক্ষিকাকে জানানোর আগেই ওই ছাত্রী নিজেই দাবি করে যে রুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়া গেছে। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকা বিষয়টি যাচাই না করেই ব্লেডসহ রুটির ছবি তুলে শিক্ষকদের মেসেঞ্জার গ্রুপে পাঠান, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শারমিন জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল।

এর আগে গত ২২ জুলাই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা বানরুটির মধ্যে ব্লেড থাকার অভিযোগ তোলে বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। অভিযোগটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ওই শিক্ষক একটা অন্যায় ও অসৎ আচরণ করেছেন। তিনি অনুমতি না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে ওই ছবি ভাইরাল করেছেন। তিনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারের সুনাম ক্ষুন্ন করেছেন। ফলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কিনা, তা দেখার জন্য এখনো তদন্ত চলমান আছে। প্রমাণ মিললে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।