পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর
ভোলার চরফ্যাশনে বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে নেমে পুকুরে ডুবে লাবিব মাহমুদ খান (১৫) নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে সরকারি ডাকবাংলোর পুকুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত লাবিব মাহমুদ খান চরফ্যাশন সরকারি টি.ব্যারেট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং চরফ্যাশন আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিহাব মাহমুদের ছেলে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিদ্যালয় মাঠে ষষ্ঠ ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আন্তঃশ্রেণি ফুটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। মাঠে খেলা চালাকালীন কয়েকজন শিক্ষার্থী পাশের ডাকবাংলোর পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় লাবিবও তাদের সঙ্গে পানিতে নামে। একপর্যায়ে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
সহপাঠীরা তাকে খুঁজে না পেয়ে বিষয়টি বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাসলিমা বেগমকে জানালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে লাবিবকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চরফ্যাশন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রিয়াজ হোসেন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই লাবিবের মৃত্যু হয়েছিল। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সাঁতার জানত না।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই তিনি ডাকবাংলোর পুকুর পাড়ে যান এবং তার উপস্থিতিতেই ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘লাবিব আমাদের নবম শ্রেণির একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে গোসল করতে গিয়ে সে পানিতে তলিয়ে যায়। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করা হয়। তারা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। একটি সম্ভাবনাময় জীবনের এমন অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
তিনি লাবিবের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।