২৭ জুলাই ২০২৬, ১৭:৪৯

বছরে উৎপন্ন ৩০ লাখ মেট্রিক টন ই-বর্জ্য, পুনর্ব্যবহার হচ্ছে ১০ শতাংশেরও কম

‘বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক নীতি-পরামর্শ সংলাপ  © সংগৃহীত

বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৩০ লাখ মেট্রিক টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য (ই-বর্জ্য) উৎপন্ন হলেও এর ১০ শতাংশেরও কম পুনর্ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজধানীর ওয়াইএমসিএ মিলনায়তনে সোমবার (২৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে ইলেকট্রনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক নীতি-পরামর্শ সংলাপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। অধিকারভিত্তিক সংগঠন ভয়েস-এর উদ্যোগে এবং অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রগ্রেসিভ কমিউনিকেশনস (এপিসি)-এর সহযোগিতায় এ সংলাপের আয়োজন করা হয়।

সংলাপে উপস্থাপিত ভয়েসের সাম্প্রতিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১ বাস্তবায়নে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। জরিপে অন্তর্ভুক্ত সব প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরে নিবন্ধিত হলেও গত অর্থবছরে কোনো প্রতিষ্ঠানই ব্যবহার অযোগ্য ইলেকট্রনিক পণ্য সংগ্রহ করেনি।

ভয়েসের উপ-পরিচালক মুশাররাত মাহেরা বলেন, ২০২২ সালে বিশ্বে প্রায় ৬২ মিলিয়ন মেট্রিক টন ই-বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে। বাংলাদেশে এর পরিমাণ আনুমানিক ৩০ লাখ মেট্রিক টন। তিনি বলেন, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতি বছর ই-বর্জ্য থেকে প্রায় ২০০ থেকে ২২১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পদ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

সংলাপে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. রওশন মমতাজ বলেন, সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও দক্ষ ও কৌশলগতভাবে পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি পরিবেশ অধিদপ্তরের অধীন কমিটিগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

রেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাকির হোসেন খান বলেন, ইলেকট্রনিক পণ্যের জন্য কার্যকর মনিটরিং ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করা জরুরি, যাতে উৎপন্ন ই-বর্জ্যের সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়। একই সঙ্গে সার্কুলার ইকোনমির আওতায় বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক পরামর্শক তড়িৎ কান্তি বিশ্বাস বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ, গবেষণা এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে নিয়ে সমন্বিত কৌশল প্রণয়ন করা জরুরি। এতে ই-বর্জ্যকে পরিবেশের বোঝা না ভেবে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।

সমাপনী বক্তব্যে ভয়েসের নির্বাহী পরিচালক আহমেদ স্বপন মাহমুদ বলেন, ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সুস্পষ্ট সরকারি কাঠামো গড়ে তোলা এবং কার্যকর নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ই-বর্জ্যকে মূল্যবান সম্পদে রূপান্তর করতে হবে।

সংলাপে নাগরিক উদ্যোগ, আরণ্যক ফাউন্ডেশন, ওয়াক ফর বেটার বাংলাদেশ, বিভিন্ন রিসাইক্লিং প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি এবং সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের মাধ্যমে টেকসই ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।