২৭ জুলাই ২০২৬, ১৭:১৭

মাছের ঘেরের পানি সরাতে স্কুলের মাঠ ও রাস্তা কেটে ফেললেন ইউপি সদস্য 

স্কুলের সামনে রাস্তা খুঁড়ে ফেলা হয়েছে।   © টিডিসি ছবি

পটুয়াখালীর গলাচিপায় মাছের ঘেরের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ও চলাচলের রাস্তা কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। বিদ্যালয়ের ভবনের পাশ ঘেঁষে মাটি কাটায় ভবনটি ঝুঁকিতে পড়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম শফিকুল ইসলাম সবুজ। এ ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছেন ইউএনও।

রবিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৩৪ নং ছোট শিবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরে ছবি ও ভিডিও সামজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে সোমবার নজরে আসে। এ ঘটনায় ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম সবুজের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বেড়িবাঁধের নিচ দিয়ে পাইপের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল। তবে পাইপ বন্ধ করে মাছের ঘের করায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরে ঘেরের পানি সরাতে ইউপি সদস্যের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের মাঠ কেটে পানি বের করে দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, মাঠ কাটার সময় স্থানীয়রা বাধা দিলেও ইউপি সদস্য তা উপেক্ষা করেন এবং হুমকি-ধমকি দেন। এ ঘটনায় মাঠ কাটার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ফারুক শরীফ বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানিয়ে মাঠ কাটা হয়েছে। তবে বিদ্যালয়ের মাঠ না কেটেও অন্য পথ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা যেত। এ বিষয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য ১০-১৫ দিন আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল বলেও জানান তিনি।

বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা বলছেন, মাঠ কেটে ফেলায় আমরা খেলাধুলা করতে পারছি না। ভবনের পাশ ঘেঁষে মাটি কাটায় চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।

এদিকে স্থানীয়দের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, যে ঘেরের পানি সরানো হয়েছে, ওই জমিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অংশ রয়েছে এবং তিনি সেখান থেকে লভ্যাংশ পান। তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহাবুব বলেন, বিদ্যালয়ের একটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তিনি বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের চেষ্টা করছেন। ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোন কেটে দেন।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম সবুজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম ছগির বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকসহ কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ‘বিদ্যালয়ের মাঠ কাটার ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।’