ট্রেনের বগি বিচ্ছিন্ন হয়ে বাস-মাহেন্দ্র-অটোরিকশায় ধাক্কা, প্রাণ গেল ২ যাত্রীর
রাজবাড়ীতে তেলবাহী ট্রেনের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া বগির সঙ্গে ধাক্কা লেগে একটি যাত্রীবাহী বাস, মাহেন্দ্র ও অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে ২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টার পর ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের খানখানাপুর রেলগেটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের শামুকখোলা গ্রামের মঈনুদ্দিন শেখের ছেলে মালেক শেখ এবং সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন পাটোয়ারি। তারা দুজনেই মাহেন্দ্র ও অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন।
দুর্ঘটনাস্থলের বিবরণ থেকে জানা গেছে, ফরিদপুরের পাওয়ার প্লান্টে তেল সরবরাহ শেষে ৩০টি ওয়াগন নিয়ে একটি তেলবাহী ট্রেন রাজবাড়ীর দিকে ফিরছিল। খানখানাপুর রেলগেট অতিক্রমের আগে ট্রেনটির পেছনের ছয়টি ওয়াগনের সংযোগকারী চেইন ছিঁড়ে মূল ট্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় পুরো ট্রেনটি চলে গেছে মনে করে গেটম্যান রেলগেট খুলে দেয়। ঠিক তখনই দৌলতদিয়া থেকে রাজবাড়ীগামী আনন্দ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস, মাহিন্দ্র ও অটোরিকশা রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করে। মুহূর্তের মধ্যেই পেছন থেকে গড়িয়ে আসা ওয়াগনগুলোর সঙ্গে যানবাহন তিনটির সজোরে সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শরিফুল জানান, তিনি বাসের যাত্রী ছিলেন। বাসটি রেলগেট পার হওয়ার চেষ্টা করলে ট্রেনের বগির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পাশে ছিটকে যায়। বাসে ঝুলে থাকা অবস্থায় অনেকেই আহত হন।
বাদশা খান নামে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বগির ধাক্কায় মাহেন্দ্রটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চলে যায় এবং অটোরিকশা ও মাহেন্দ্রটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। মাহেন্দ্রর ভেতরে চালক আটকা পড়লে পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন শেখ জানান, বাসটি ধাক্কা খেয়ে রেললাইনের পাশের খাদের কিনারে চলে যায়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গুরুতর আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো রেকার দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে রাজবাড়ী রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাবিবুর রহমান জানান, কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সেই ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।