২৭ জুলাই ২০২৬, ১৫:৩৮

টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালে বন্ধ যান চলাচল 

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে হরতাল পালন  © টিডিসি

চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালন করছেন ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হরতাল সোমবারও উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। ফলে ঢাকা-ফেনী-খাগড়াছড়ি (ফটিকছড়ি অংশ) আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি ও ক্লিনিক খোলা রয়েছে।

হরতালের কারণে ফেনী-খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং পেলাগাজী দিঘী-হেয়াঁকো সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

এদিকে বালুটিলা বাজার, চিকনছড়া বাজার, গার্ডের দোকান, হেয়াঁকো, দাঁতমারা, শান্তিরহাট ও নারায়ণহাট এলাকায় আন্দোলনকারীরা ২০ থেকে ২৫ টি স্থানে বিক্ষোভ ও মিছিল করেন। তবে সকাল ৮ টা পর্যন্ত কোথাও ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, সংঘর্ষ বা আটকের মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে পুলিশের একাধিক টিম সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শাহাদাত হোসেন বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে সদর দপ্তর ভুজপুর মৌজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে দুটি উপজেলা সদর রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। তাছাড়া সব প্রশাসন কাঠামো দক্ষিণ অংশে হওয়াও উত্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান এখনও হয়নি।

আন্দোলনে অংশ নেয়া রাহাত বলেন, আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। উপজেলার নাম যখন ফটিকছড়ি উত্তর, তখন সদর দপ্তরও উত্তরাঞ্চলে হতে হবে। জনগণের যৌক্তিক দাবি মেনে না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সদরদপ্তর স্থানান্তর করতে হবে।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম  বলেন, পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি,জরুরি সেবা গুলো হরতালের আওতায় মুক্ত রয়েছে।