ঋণ করে বিদেশ, অর্থসংকটে মৃত্যুর ১ বছর পর দেশে ফিরল লাশ
কম্বোডিয়ায় স্ট্রোকে মারা যাওয়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের প্রবাসী মিন্টু মিয়ার (৫১) লাশ মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর দেশে ফিরেছে। নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও অর্থসংকটের কারণে তার মরদেহ দেশে আনতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে পরিবারের সদস্যদের।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে মিন্টু মিয়ার মরদেহ দেশে পৌঁছায়।
স্বজনরা জানান, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে জমি বিক্রি ও ঋণ করে প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে কম্বোডিয়ায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন মিন্টু। তবে সড়ক সম্প্রসারণের কারণে রেস্টুরেন্টটি ভেঙে ফেলা হলে তিনি এক কম্বোডিয়ান নাগরিকের সঙ্গে যৌথ ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন। সেখানেও প্রতারণার শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানী নমপেনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, মৃত্যুর পর তার মালামালও লুট হয়ে যায়। ভ্রমণ ভিসায় কম্বোডিয়ায় গিয়ে পরে বিজনেস ভিসা নেওয়ায় তিনি বাংলাদেশ সরকারের কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত নিবন্ধনের আওতায় ছিলেন না। এ কারণে মরদেহ দেশে পাঠাতে জটিলতা তৈরি হয়। বিভিন্ন পক্ষ এ কাজে ৭ থেকে ৮ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করলেও ঋণগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি।
পরে মিন্টু মিয়ার স্ত্রী তোফা খানম ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর বেসরকারি সংস্থা উইটনেস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা চান। সংস্থাটি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ও ধারাবাহিক যোগাযোগের মাধ্যমে সরকারি সহায়তায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।
উইটনেস ফাউন্ডেশনের কমিউনিকেশন কো-অর্ডিনেটর রাগীব হাসান বলেন, সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রায় এক বছর পর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।