পিছিয়ে পড়া বগুড়ার উন্নয়নে সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান, গঠন হচ্ছে কমিটি
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া উন্নয়নের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। তিনি বলেন, শুধু শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের বাড়ি বগুড়া হওয়ার কারণে এ অঞ্চল দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। বর্তমান সরকার সেই বৈষম্য দূর করে বগুড়াকে উন্নয়নের মূলধারায় নিয়ে আসতে কাজ করছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় বগুড়া জেলা প্রশাসন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত বগুড়া জেলা ও বগুড়া সিটি করপোরেশনের সমন্বিত উন্নয়ন বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, ‘কোনো প্রকল্প দায়সারাভাবে প্রণয়ন বা মনিটরিং করা যাবে না। দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি বলেন, বগুড়া জেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন প্রকল্প এবং জেলার ১২টি পৌরসভার উন্নয়নে আরও প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পেলেই এসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু হবে, যা বগুড়ার অবকাঠামো ও নাগরিক সেবায় নতুন গতি আনবে। ২০ বছর পিছিয়ে পড়া বগুড়ার উন্নয়ন ঘাটতি পূরণে কাজ করা হচ্ছে।
মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা সড়ক, ড্রেনেজ, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নগর উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। এ সময় পিছিয়ে পড়া বগুড়ার দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
বগুড়া জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার, বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, বিভাগীয় কমিশনার আ.ন.ম. বজলুর রশীদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ উজ্জ্বল হোসাইনসহ জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।