২৫ জুলাই ২০২৬, ২০:৩৩

গোপালগঞ্জে ১০ দিনের ব্যবধানে সবজির দাম বেড়েছে দু-তিন গুণ

সবজির একটি দোকান  © সংগৃহীত

গোপালগঞ্জে মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে সবজির দাম দুই-তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারে এখন ৬০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। একই সঙ্গে মাছের দামও বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

শনিবার (২৫ জুলাই) গোপালগঞ্জ শহরের বড় বাজার ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি কাঁচাবাজার ও মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যমতে, ১০ দিন আগে প্রতি কেজি ঢ্যাঁড়শ ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিষ্টিকুমড়া ২৫-৩০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, উচ্ছে ৫০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, কাকরোল ৩০ টাকা থেকে ৮০ টাকা, ধুন্দল ২৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৩০ টাকা থেকে ৮০ টাকা এবং পটল ৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাঝারি আকারের একটি লাউ আগে ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া গেলেও এখন কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। তুলনামূলক কম দামের সবজি হিসেবে পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে। আর কাঁচামরিচের দাম বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা কেজি, যা ১০ দিন আগে ছিল ৮০ টাকা।

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারেও দেখা গেছে ঊর্ধ্বগতি। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি দরে। ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশের দাম উঠেছে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া পাঙাশ, রুই, কাতলা ও সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন চাষের মাছের দাম কেজিতে ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে।

মাছ বিক্রেতা জহর বলেন, যেসব জেলা থেকে চাষের মাছ আসে, সেখানে বৃষ্টির কারণে মাছ ভেসে গেছে। এ সময় বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। ফলে সব ধরনের মাছের দাম বেশি রয়েছে।

ক্রেতা সাইদুল ইসলাম শোভন বলেন, বাজারে এসে বাজেট ঠিক রাখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় অনেক পণ্য না কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে গেছে।

মাছ ক্রেতা মো. এহসানুল আলম বলেন, ইলিশ এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। চাষের মাছের দামও বেড়েছে। আগে সপ্তাহে দুই-তিন দিন মাছ কিনতাম, এখন এক-দুই দিন কিনতে পারছি। আয় বাড়েনি, কিন্তু প্রতিদিনই বাজারের খরচ বাড়ছে।

সবজি ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন এলাকার সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে আড়তে সবজির সরবরাহ কমেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।

সবজি বিক্রেতা রমজান শেখ বলেন, ‘আমরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াই না। আড়ত থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। তাই সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করতে হচ্ছে।’

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান জানান, চলতি জুলাই মাসে জেলায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে প্রায় ৮৫ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৬০ জন সবজি চাষি। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আরিফ হোসেন বলেন, মাছ ও সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাইরে থেকে সবজি আনতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের ক্রয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে সমন্বয় রেখে পণ্য বিক্রির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।