২৩ জুলাই ২০২৬, ২২:৩৯

দক্ষিণ গফরগাঁওকে আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়তে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতি শীর্ষক মতবিনিময় সভা  © সংগৃহীত

মাত্র পাঁচ মাসে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে যে দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছে, তা স্বাধীনতার পর আর হয়নি। দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে উপজেলা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগসহ এলাকার পুরো চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী পাঁচ বছরে দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে কোনো কাঁচা রাস্তা থাকবে না। একইসঙ্গে এলাকাকে মাদকমুক্ত করতে হবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও শিল্পায়নে সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষিণ গফরগাঁওকে একটি আধুনিক উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ফোরাম’ আয়োজিত ‘দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের উন্নয়ন ও অগ্রগতি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

একুশে টেলিভিশনের বার্তা প্রযোজক আনোয়ারুল কাইয়ুম কাজলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ-জামান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও-দক্ষিণ গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু।

এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মতি, সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) সভাপতি ও ইউএনবির ডেপুটি এডিটর মাসউদুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক প্রফেসর ড. সিরাজুল হক, যুগ্ম সচিব হেমায়েত হোসেন, তিতাস গ্যাসের সাবেক জিএম ফয়জুল বারী গোলাপ এবং সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার হাম্মাদ হোসেন নয়ন প্রমুখ।

নতুন উপজেলা বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় অবকাঠামো উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির কার্যক্রম আরও দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, আগামী ৫ বছর নয়, তিন বছরের মধ্যেই অবহেলিত গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের চিত্র পাল্টে যাবে। আগামী প্রজন্মের জন্য সবাইকে নিয়ে আমরা মানবিক, আধুনিক ও বাসযোগ্য গফরগাঁও তৈরিতে কাজ করতে চাই। এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে কাজ করে যাচ্ছি। প্রতিদিন বিভিন্ন দপ্তরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তদবির করে যাচ্ছি।

গফরগাঁও পৌরসভার চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরে মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, বর্তমানে পৌরসভায় ৩২ কোটি টাকার কাজ চলমান রয়েছে। এর বাইরে আরও ১৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ইতোমধ্যে অনুমোদন হয়েছে, যা শিগগিরই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে। এছাড়া অতিরিক্ত ৫০ কোটি টাকার বরাদ্দেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

গফরগাঁওয়ের জন্য আলাদা উন্নয়ন প্রকল্প করা হয়েছে জানিয়ে এমপি বাচ্চু বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষ বরাদ্দের অনুরোধ জানালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের জন্য পৃথক প্রকল্প প্রণয়ন করেছে এবং ইতোমধ্যে প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রাস্তা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে আক্তারুজ্জামান বলেন, গত পাঁচ মাসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রাস্তা পাকাকরণ, এইচবিবি ও ইট সোলিংয়ের কাজ হয়েছে। যেসব এলাকায় মাটির রাস্তার দাবি এসেছে, বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সেখানে কাজ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে রাস্তা বসে যাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে স্থায়ী উন্নয়ন করা যায়।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল বলেন, বর্তমান এমপি মাত্র চার মাসের মাথায় দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা বাস্তবায়নের দীর্ঘদিনের আশা পূরণ করেছেন। উনি নির্মোহ ব্যক্তি, উনি এটা ঝুলিয়ে রাখতে পারতেন, নির্বাচনের আগে করতে পারতেন। আর জায়গা কোনো ফ্যাক্টর নয়। যে জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এটিই উপযুক্ত। উপজেলা ভবন বা অন্যান্য প্রকল্পের কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি যেন না হয়, বর্তমান এমপি সেদিকে লক্ষ্য রাখবেন বলে মনে করছি। এখন অনেক রাস্তার কাজ চলমান, এটি আগে হয়নি।

সাবেক সিনিয়র সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, উপজেলা ভবনের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইগো বা আঞ্চলিকতাকে প্রশ্রয় না দিয়ে সামষ্টিকভাবে যা ভালো, তাই মেনে নেওয়া উচিত। কোনো এলাকার জন্য কোনটি ‘ভালো’—তার একটি দার্শনিক সংজ্ঞা রয়েছে; যা সবচেয়ে বেশি মানুষের কাজে আসে, সেটাই প্রকৃত অর্থে ভালো। নয়াবাড়ী বা কান্দিপাড়ায় যে স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে, তা দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের স্বার্থেই সবচেয়ে উপযুক্ত ও যৌক্তিক। সামষ্টিক কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানিয়েছি।

বিজিএপিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন মতি বলেন, সরকার যে স্থান নির্ধারণ করছে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা পরিষদ নির্মাণের জন্য, স্থানটি আমাদের দৃষ্টিতে যথাযথ হয়েছে। আমরা চাই এই উপজেলা সদরের সঙ্গে প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামের সঙ্গে কানেক্টিভিটি হোক, সেটি হলে সরকারি সেবা গ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না।

সভাপতির বক্তব্যে সাবেক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ-জামান বলেন, গফরগাঁওবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে উপজেলার উন্নয়ন, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।