২৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮

ময়মনসিংহ নগরীতে ডেঙ্গুর ৬ ডেঞ্জার জোন, হাসপাতালে বাড়ছে রোগী

মশা নিধনে স্প্রে করা হচ্ছে  © সংগৃহীত

ময়মনসিংহ নগরীতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নগরের ৬টি ওয়ার্ডকে ‘স্পেশাল জোন’ ঘোষণা করেছে সিটি করপোরেশন। এদিকে চলতি বছরের প্রথম তিন সপ্তাহেই ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২০ জন ডেঙ্গু রোগী। রোগীর চাপ বাড়ায় পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু করা হলেও ২০ শয্যার ওয়ার্ডে ৩৯ জন ভর্তি থাকায় অনেককে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছরই জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। বছরের মোট আক্রান্তের সিংহভাগ রোগী এই পাঁচ মাসেই হাসপাতালে ভর্তি হন। 

হাসপাতালে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সাত মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৭৬ জন। মৃত্যু হয়েছিল মাত্র একজনের। অবশ্য গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী ছিল ২ হাজার ২২৭ জন। আর মৃত্যু হয়েছিল ২৮ জনের।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, আজ বুধবার সকাল ৭টা পর্যন্ত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৩৯ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হন ১০ জন রোগী, ছাড়া পান ১১ জন।

ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় ময়মনসিংহ নগরের ছয়টি ওয়ার্ডকে ‘স্পেশাল জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিটি করপোরেশন। এগুলো হলো ৬, ১০, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড। সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত নগরে ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও জুন মাসে ৮ জন এবং ২১ জুলাই পর্যন্ত ৫৮ জন মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। চলতি বছর মোট আক্রান্ত হন ৭০ জন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে একজনের।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন। তিনি বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্পেশাল জোন চিহ্নিত করা হয়েছে। মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকি বেশি থাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে স্পেশাল জোনে দিনে দুই বেলা মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফগিংয়ের পাশাপাশি স্প্রে করা হচ্ছে। আশপাশ পরিষ্কার রাখতে বাড়ি বাড়ি লিফলেটও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ঝুঁকি বিবেচনায় স্পেশাল জোনের মধ্যে রয়েছে নগরের নওমহল এলাকা। এ এলাকার বাসিন্দা  মো. বিল্লাল হোসেন জানাান, ডেঙ্গুতে অনেক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। কিছুদিন আগে এক নারী মারা গেছেন। মশার জন্য রাতের বেলায় বিরাট ভয় করে। মশার ওষুধ দিলেও মশা মরে না।

সুফিয়া খাতুন জানান, ‘মশার ভয়ে সারা রাত ঘুমাইতে পারি না। দিনে কম মশা ধরলেও রাতে বেশি ভয় থাকে। ডেঙ্গু মশার লাগিই আমাদের ভয়। সিটি করপোরেশন থেকে ওষুধ দিয়া গেলেও মশা তো মরে না।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বছরজুড়ে ডেঙ্গু রোগীদের মেডিসিনসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় ২ জুলাই থেকে পৃথক ওয়ার্ড চালু করা হয়।

বুধবার বেলা দেড়টার দিকে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, বিছনায় ঠাঁই না হওয়ায় মেঝেতেও রোগী ভর্তি আছেন। ২০ শয্যার এই ডেঙ্গু ওয়ার্ডে সকাল পর্যন্ত রোগী ভর্তি ছিল ৩৯ জন।

দায়িত্বরত নার্সদের তথ্য অনুযায়ী, ২ জুলাই থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত ২৪২ জন রোগী ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে ১০৩ জন ময়মনসিংহ জেলার। সিটি করপোরেশন এলাকার রোগী প্রায় ৫৬ শতাংশ। এই রোগীর মধ্যে নগরের নওমহল, আকুয়া মাদ্রাসা কোয়ার্টার ও বাউন্ডারি রোড এলাকার রোগীই বেশি।

জেলা সিভিল সার্জন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহ মেডিকেলের পাশাপাশি জেলার ১২টি উপজেলায় ২২ জুলাই পর্যন্ত ৩৫ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৫ জন বর্তমানে ভর্তি আছেন। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আজ পর্যন্ত ২৩৬ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে একজনের। তবে কোন উপজেলায় কতজন আক্রান্ত হয়েছে, সে পরিসংখ্যান সংরক্ষিত নেই সিভিল সার্জন দপ্তরে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ফয়সল আহমেদ বলেন, নতুন যোগ দেওয়া চিকিৎসকদের ডেঙ্গু চিকিৎসায় বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আক্রান্ত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশির ভাগ সিটি করপোরেশন এলাকার। এ ছাড়া ময়মনসিংহ মেডিকেলে জেলা ছাড়াও আশপাশের সব জেলার রোগী আসায় সংখ্যাটা বেশি মনে হয়।