২২ জুলাই ২০২৬, ১৫:৫১

চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে বন্যাকবলিত ১ হাজার পরিবারকে আইওএমের জরুরি সহায়তা

আইওএমের জরুরি সহায়তা  © সংগৃহীত

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের এক হাজার পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এসব সহায়তা বিতরণ করে সংস্থাটি।

আইওএম সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি আশ্রয়সামগ্রী হিসেবে ত্রিপল বিতরণ করা হয়েছে। এসব পরিবারের অনেকের ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তাদের অস্থায়ী আশ্রয় নিশ্চিত করতেই এ সহায়তা দেওয়া হয়।

অন্যদিকে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় আরও ৫০০ বন্যাকবলিত পরিবারকে খাদ্য ও আশ্রয়সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ১০ কেজি চাল, ২ কেজি মসুর ডাল, ১ কেজি লবণ, ১ লিটার ভোজ্যতেল এবং একটি ত্রিপল দেওয়া হয়।

আইওএম জানায়, স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে এ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

আইওএম বাংলাদেশের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, বাংলাদেশজুড়ে সাম্প্রতিক বন্যায় অসংখ্য পরিবার তাদের ঘরবাড়ি, সম্পদ ও জীবিকার ক্ষতির মুখে পড়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও সহনশীলতা বাড়াতে সরকার ও অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।

সংস্থাটি জানায়, চলমান মৌসুমি বৃষ্টিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা ও বন্যা সৃষ্টি হয়েছে। এতে ঘরবাড়ি, অবকাঠামো ও মৌলিক সেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য জরুরি খাদ্য ও আশ্রয়সামগ্রী পুনরুদ্ধারের প্রথম ধাপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আইওএমের তথ্যমতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দুর্যোগপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ২০২৫ সালে দুর্যোগের কারণে দেশে প্রায় ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছিল, যাদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি বাস্তুচ্যুতি ও বারবার জলবায়ুজনিত দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানায়, জরুরি ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে আইওএম। এর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র উন্নয়ন, কমিউনিটি প্রস্তুতি, জীবিকা পুনরুদ্ধার, দুর্যোগজনিত বাস্তুচ্যুতি নিয়ে গবেষণা এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু অভিযোজন নীতিতে মানব চলাচলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ।

আইওএম বলছে, চলমান বর্ষা মৌসুমে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন ও মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বাস্তুচ্যুতি প্রতিরোধ, ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে কাজ অব্যাহত থাকবে।