২২ জুলাই ২০২৬, ১০:২৬

বন্যায় চট্টগ্রামে পাউবোর বাঁধ-স্লুইসগেটের ব্যাপক ক্ষতি, পুনর্গঠনে লাগবে ১৫০ কোটি টাকা

নদীর বাঁধ ভাঙন   © টিডিসি ছবি

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প, স্লুইসগেট, খালসহ বিভিন্ন জলকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে এসব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারে ব্যয় হতে পারে দেড়শ কোটির বেশি টাকা। তবে মাঠপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ চলমান থাকায় চূড়ান্ত ব্যয়ের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে পাউবো।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় শতাধিক স্থানে বাঁধ ভাঙন, নদীতীর ধস এবং বিভিন্ন জলকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ফটিকছড়ি, হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া, রাউজান, বাঁশখালী, আনোয়ারা, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ ও সন্দ্বীপ উপজেলায়। পাশাপাশি খাগড়াছড়ি জেলার কয়েকটি এলাকাও বন্যার আঘাতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর আওতায় ৭৪টি স্থাপনায় প্রায় ২২ কোটি ৯১ লাখ টাকার এবং বিভাগ-২-এর আওতায় ৯৩টি স্থাপনায় প্রায় ৮৬ কোটি ৯২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুই বিভাগের মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা।

এদিকে রাঙামাটি পানি উন্নয়ন বিভাগের আওতায় ১০২টি স্থানে প্রায় ৮ দশমিক ৫৩ কিলোমিটার এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব অবকাঠামো পুনর্বাসনে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৪১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছে পাউবো। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দেড়শ কোটিরও বেশি।

ফটিকছড়িতে হালদা ও ধুরং নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প এবং বিভিন্ন সড়কে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। হাটহাজারী, রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানে হালদা, কর্ণফুলী ও ইছামতী নদীর তীর ভেঙে গেছে এবং একাধিক বাঁধ ধসে পড়েছে।

এ ছাড়া আনোয়ারা, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় পোল্ডার, সাঙ্গু ও ডলু নদীর তীররক্ষা বাঁধ এবং বিভিন্ন খালের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁশখালীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, খালের পাড়, একাধিক স্লুইসগেট ও ফ্ল্যাপগেট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, সদর ও মাটিরাঙ্গা উপজেলায় মাইনী ও চেঙ্গী নদীর তীরভাঙনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে সন্দ্বীপে কয়েকটি স্লুইসগেট এবং সীতাকুণ্ডে একটি রেগুলেটর স্লুইসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পাউবোর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, এটি ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তালিকা। বিভিন্ন এলাকায় এখনও তথ্য সংগ্রহ চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। নতুন করে ভাঙন ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি এড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ, নদীতীর ও জলকাঠামো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহীদ বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ, নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প, স্লুইসগেট ও অন্যান্য জলকাঠামোর প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে প্রকৌশলীরা এখনও ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত নিরূপণের কাজ করছেন। যেসব স্থানে ক্ষতি বেশি হয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে জরুরি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি স্থায়ী পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্প ও বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।