২২ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৫

বন্যায় বিক্রির আগেই সর্বনাশ, ২০ লাখ টাকার পেঁপে বাগান হারিয়ে দিশেহারা কৃষক

হতাশায় চাষী  © সংগৃহীত

বাজারজাত করার আর মাত্র এক মাস বাকি ছিল। গাছে গাছে ঝুলছিল বিক্রিযোগ্য পেঁপে। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের বন্যায় মুহূর্তেই তলিয়ে যায় পুরো বাগান। পানি নামার পর দেখা যায়, প্রায় সব গাছই মারা গেছে। কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার এক কৃষকের প্রায় ২০ লাখ টাকার পেঁপে বাগান এভাবেই বন্যার পানিতে ধ্বংস হয়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নুরুল আবছার বাদশার বাড়ি চকরিয়া পৌরসভার মৌলভীরচর এলাকায়। তিনি জানান, আট মাস আগে দুই কানি জমিতে ১ হাজার ৩০০টি পেঁপের চারা রোপণ করে বাণিজ্যিকভাবে বাগান গড়ে তোলেন। অধিকাংশ গাছে ফল ধরেছিল এবং এক মাসের মধ্যেই বাজারজাতের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু গত ৫ জুলাই থেকে শুরু হওয়া টানা বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীর পাহাড়ি ঢলের পানিতে পুরো বাগান তলিয়ে যায়। এতে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ গাছ মারা যায়। তার দাবি, এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পেঁপে বাগানের পাশাপাশি তিনি দুই কানি জমিতে বেগুন, দুই কানি জমিতে শসা, আড়াই কানি জমিতে তিত করলা এবং দেড় কানি জমিতে কলার চাষ করেছিলেন। বন্যার পানিতে এসব ফসলও নষ্ট হয়ে গেছে।

নুরুল আবছার বাদশা বলেন, ‘জীবনের সব সঞ্চয় বিনিয়োগ করে বাগান করেছি। বিক্রির সময় এসে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন করে চাষাবাদ শুরু করার মতো সামর্থ্য নেই। সরকারের প্রণোদনা ও সহযোগিতা চাই।’

চকরিয়া পৌরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবুল বশর জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পেঁপে বাগানসহ অন্যান্য ফসলের তথ্য সরকারি জরিপে অন্তর্ভুক্ত করে উপজেলা কৃষি বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহনাজ ফেরদৌসী বলেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যায় চকরিয়ার কৃষি খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সরকারি প্রণোদনা এলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা করা হবে।

চকরিয়া উপজেলা কৃষি বর্গাচাষি সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন পুতু জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার ১৩ হাজার ৮৫২ জন কৃষকের ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেঁপে, তিত করলা, বেগুন, শসাসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতিতে কৃষকরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দ্রুত সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসনের দাবি জানান।