এমপির নির্দেশে বন্ধ কালভার্ট উন্মুক্ত, জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি ৩ শতাধিক পরিবারের
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্নি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘ তিন বছর ধরে বন্ধ থাকা একটি কালভার্টের মুখ উন্মুক্ত করা হয়েছে। গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানীর নির্দেশে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিনব্যাপী কাজ করে কালভার্টের মুখে জমে থাকা মাটি ও বালি অপসারণ করেন। এতে পানিনিষ্কাশনের পথ সচল হওয়ায় জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেয়েছে তিন শতাধিক পরিবার।
সোমবার (২০ জুলাই) কালভার্টের মুখে জমে থাকা মাটি ও বালি অপসারণ করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাসির সড়কের নিচে থাকা সরকারি কালভার্ট দিয়ে বর্ষার পানি সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ত। তবে প্রায় তিন বছর আগে সরকারি জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে এক ব্যক্তি কালভার্টের মুখে মাটি ও বালি ভরাট করে দিলে পানি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে প্রতি বর্ষা মৌসুমে এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত, কৃষিকাজ ও গবাদিপশু পালনও ব্যাহত হতো।
গত শুক্রবার জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ নিয়ে স্থানীয় এক যুবক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। বিষয়টি এমপি এস এম জিলানীর নজরে এলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তার নির্দেশে গতকাল সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কালভার্টের মুখ পরিষ্কার করে পানিনিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম, বর্নি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির, সাধারণ সম্পাদক ওলিউর রহমান খানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা বাঁকা খাঁ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ৩০০ পরিবারের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছিল। জনপ্রতিনিধিদের জানিয়েও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। অবশেষে এমপির নির্দেশে কালভার্টের মুখ উন্মুক্ত হওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।
রুনা আক্তার জানান, দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে কষ্ট হতো, বই-খাতা নষ্ট হয়ে যেত এবং গবাদিপশু পালনেও সমস্যা দেখা দিত। এখন পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় এসব দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলেছে।
পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নুরজাহান বলে, ‘বাড়ির সামনে পানি থাকায় নিয়মিত স্কুলে যেতে পারতাম না। এখন পানি নেমে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যেতে পারব।’
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আমিনুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওর ভিত্তিতে বিষয়টি এমপির নজরে আসে। পরে তার নির্দেশে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কালভার্টের মুখ পরিষ্কার করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করেন। তিনি ব্যক্তিস্বার্থে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।