২০ জুলাই ২০২৬, ১৯:০৩

স্কুলে প্রধান শিক্ষকের ভাই-ভাবিসহ পরিবারের ৯ জন, বললেন— ‘যদি পারে প্রশাসন ব্যবস্থা নিক’

ঠাকুরগাঁও ফ্রীড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতন স্কুল  © টিডিসি ফটো

ঠাকুরগাঁওয়ে ফ্রীড মাতৃছায়া অটিস্টিক শিশু নিকেতন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরার) বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্যসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা। প্রশাসন বলছে, ক্ষমতার স্বল্পতা থাকায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুতই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) শাখায় শিক্ষকদের একাধিক অভিযোগ থেকে জানা গেছে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত প্রতিবন্ধী স্কুলটিতে নতুন করে ১৭ জন নিয়োগপ্রাপ্ত হন। যাদের কাছ অর্থ আত্মসাৎ, সময়মতো হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করতে না দেওয়া, প্রতিষ্ঠানের নামে সরকারের দেওয়া বেশকিছু ল্যাপটপ নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া, সরকারের দেওয়া বরাদ্দের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অভিযোগ তোলা হয়।

শুধু তাই নয়, প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশনা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মানছেন না। একই সাথে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো প্রতিষ্ঠানের কাজ করছেন তিনি। একের পর এক অভিযোগ জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা হলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাশাপাশি মারমুখী আচরণে লিপ্ত হচ্ছেন প্রধান শিক্ষক। 

প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) মহিলা আওয়ামী লীগেরও নেত্রী। সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এলাকায় জেলা শহরে অবস্থিত এই প্রতিবন্ধী স্কুলে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবাষির্কীতে কেক কাটেন, এমন অভিযোগে সদর থানা পুলিশ অভিযানও চালিয়েছিল। স্কুলটিতে তার ভাই, ভাবিসহ পরিবারের ৯ জনের নিয়োগে হাত রয়েছে তার। 

আর সে কারণে স্কুলে তার প্রভাবও বেশি। এসব অনিয়মের বিষয়ে মুখ খুললে নানানভাবে হয়রানি করা হয় অন্য শিক্ষকদের। আর তাই জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষকরা। তবুও বহাল তবিয়তে রয়েছেন স্কুলের এই প্রধান শিক্ষক। 

জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মাসহুরা বেগম (হুরা) সব অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেন, মন্ত্রণালয় ১৭ জনকে নিয়োগ দিয়ে ঠিক করেনি। আর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা যদি পারে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিক। 

জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তিনি কোনো কথাই কর্ণপাত করছেন না। ক্ষমতা স্বল্পতার কারণে জেলা প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সময় লাগছে। প্রধান শিক্ষককে বলা হয়েছে, লিখিত জবাব দ্রুত সময়ের মধ্যে না দিলে তার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয়ে পত্র পাঠানো হবে।