১৯ জুলাই ২০২৬, ১৯:২০

‘সার্টিফিকেট অথবা টাকা’ ফেরত চেয়ে চট্টগ্রামে সমাজসেবা কার্যালয়ে হামলা প্রশিক্ষণার্থীদের

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ভাঙচুর  © টিডিসি ফটো

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে প্রশিক্ষণার্থীরা। রবিবার (১৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সার্টিফিকেট অথবা টাকা ফেরত চেয়ে কার্যালয়টিতে হামলা চালানো হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ফি দিয়েও সার্টিফিকেট কিংবা টাকা, কোনোটিই ফেরত না পাওয়ায় ক্ষোভ থেকে তাঁরা এই কাজ করেছেন। হামলার সময় অফিসের কম্পিউটারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি লুটের চেষ্টাও চালানো হয়। তবে এ ঘটনায় বিকেল পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করা হয়নি।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে প্রশিক্ষণরত ৮-১০ জন শিক্ষার্থী এসে তাদের সার্টিফিকেট দাবি করেন। সার্টিফিকেট দিতে না পারলে প্রশিক্ষণের জন্য দেওয়া টাকা ফেরত চান তারা। 

একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ যুবকদের মধ্যে কয়েকজন অফিসের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন তারা। পরে টেবিলের ওপর থাকা কমপিউটার ও ল্যাপটপে ভাঙচুর করেন। তবে তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের কর্মীরা এসে বাধা দেন তাদের। হামলার পর ওই কক্ষ থেকে সরঞ্জামাদি সরিয়ে নেন সমাজসেবা অফিসের কর্মচারীরা। 

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের একটি কক্ষের লোগো ও সাইনবোর্ড ব্যবহার করে ‘দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছিলেন মো. আতাউল্লাহ মনির নামে এক ব্যক্তি। তৎকালীন সমাজসেবা কর্মকর্তার সঙ্গে হওয়া চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালেই প্রতিষ্ঠানটির মেয়াদের সমাপ্তি ঘটে। মেয়াদ শেষ হলেও অনিয়মিতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে ওই ব্যক্তি পালিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান মেলেনি।

প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হওয়ার পর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন কোর্সে অংশ নেওয়া প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট ও টাকা ফেরতের দাবিতে সমাজসেবা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে ৩০০ শিক্ষার্থীর সার্টিফিকেট সমাজসেবা কার্যালয়ের হাতে আসে। সদ্য কক্সবাজারে বদলি হওয়া আনোয়ারার সাবেক ইউএনও তাহমিনা আক্তারের কাছ থেকে স্বাক্ষর করিয়ে সার্টিফিকেটগুলো আনাও হয়েছিল। তবে যে শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণরত অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটিকে বন্ধ হতে দেখেছেন, তারাই মূলত টাকা ফেরত ও সনদের দাবিতে আজ কার্যালয়টিতে চড়াও হন।

এর আগে, ড্রাইভিং প্রশিক্ষণের নামে টাকা নিয়ে ক্লাস না করানো এবং সার্টিফিকেট না দেওয়ার মতো নানা অনিয়মের অভিযোগে গত ১৯ এপ্রিল মো. এমরান, শরৎ দত্ত, মোহাম্মদ আতিক, মো. মানিক ও মো. রায়হানসহ বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী যুবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এর কোনো সুরাহা মেলেনি বলে তাদের অভিযোগ।

জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রিজোয়ান আহমেদ বলেন, ঘণ্টাখানেক আগে কয়েকজন ছেলে এসে অফিসের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তারা অফিসের কমপিউটার ও যন্ত্রপাতি ভাঙচুর করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। ইউএনও অফিসের লোকজন এসে বাধা দিলে তারা সফল হতে পারেনি। টাকা আত্মসাৎ ও সার্টিফিকেট না পাওয়ায় পরীক্ষা দিতে না পারার ক্ষোভ থেকে তারা এই কাজ করেছে বলে জানিয়েছে। বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানানো হয়েছে।

যোগাযোগ করা হলে চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) ওমর ফারুক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আগেই সমাধান করা হয়েছিল। আজকে আমি উপজেলা কার্যালয়ে ছিলাম না, কিছু প্রশিক্ষণার্থী এসে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এটি মূলত একটি ভুল বোঝাবুঝি। আশা করছি দ্রুতই এর সমাধান হয়ে যাবে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এই ঘটনার বিষয়ে বিকেল পর্যন্ত পুলিশকে কেউ কিছু জানায়নি এবং কোনো লিখিত অভিযোগও পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।