১৮ জুলাই ২০২৬, ১৮:৩২

বিয়ের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ২, কনে আইসিইউতে, বর-সহ ১২ জন আহত

বিয়ের গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ২  © টিডিসি ফটো

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে বিয়ের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকে। নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ অন্তত ১২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কনে সুমাইয়া আক্তার বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন। অপরদিকে বর মোরছালিন ইসলামের ডান হাত ভেঙে গেছে এবং তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত ৩টার দিকে কিশোরগঞ্জ-টেংগনামারী সড়কের শাল্টিবাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, নীলফামারী সদর উপজেলার কচুকাটা ইউনিয়নের বন্দরপাড়া এলাকার জিকরুল ইসলামের সাত মাস বয়সি ছেলে জীবন ইসলাম এবং একই এলাকার মোজা মিয়ার ছেলে মো. রিয়াদ ইসলাম (২০)। রিয়াদ চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে সদর উপজেলার কচুকাটা বন্দরপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোরছালিন ইসলামের সঙ্গে কিশোরগঞ্জ উপজেলার কেশবা গ্রামের শরিফ মিয়ার মেয়ে সুমাইয়া আক্তারের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রায় ১৫ জন বরযাত্রীকে নিয়ে নববধূসহ একটি মাইক্রোবাস নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

পথিমধ্যে শাল্টিবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে বর-কনেসহ অন্তত ১৪ জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু জীবন ইসলাম ও রিয়াদ ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ১২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নববধূ সুমাইয়া আক্তার বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে বর মোরছালিন ইসলামের ডান হাত ভেঙে গেছে এবং তিনি একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

বরের স্বজন মামুনার রশীদ মিঠু বলেন, বিয়ের আনন্দ শেষ হওয়ার আগেই এমন দুর্ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। দুইজনের মৃত্যু হয়েছে, আর কনে আইসিইউতে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।

কনের বাবা শরিফ মিয়া বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথেই এমন দুর্ঘটনা সব স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। এখন শুধু মেয়ের সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।

কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল গফুর জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত দুইজনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।