দুই বছরেও বিচার নেই, শহীদ আহসান হাবিবকে স্মরণ করে স্বজনদের আর্তনাদ
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে কক্সবাজারে নিহত চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালীর কৃতী সন্তান আহসান হাবিবের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে তাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে দুই বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া এবং তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকার অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন তার ছোট ভাই মোহাম্মদ রায়হান ও চাচা মোহাম্মদ মাসউদ ছিদ্দিকী।
মোহাম্মদ রায়হান তার পোস্টে লেখেন, বড় ভাই আহসান হাবিব ছিলেন তার জীবনের অন্যতম শক্তির জায়গা। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। ভাইয়ের হাসিমাখা মুখ আজও প্রতিনিয়ত চোখে ভাসে বলে উল্লেখ করে তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন এবং আল্লাহর কাছে তাকে শহীদ হিসেবে কবুল করার প্রার্থনা জানান।
পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখনো হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়নি। পাশাপাশি পরিবারের হাতে এখনো ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পৌঁছেনি বলেও দাবি করেন। তিনি সরকারের প্রতি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে চাচা মোহাম্মদ মাসউদ ছিদ্দিকী ২০২৪ সালের ১৮ জুলাইয়ের সেই মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিচারণ করে লেখেন, গলায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আহসান হাবিবকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু পথেই তাঁর চোখের সামনে আহসান হাবিব শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেই মুহূর্তের স্মৃতি আজও তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের এসব পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই শহীদ আহসান হাবিবের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন।
আহসান হাবিব ১৯৯৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের আসাদ আলী পাড়া (ছড়ারকুল) এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি চকরিয়া সরকারি কলেজের ডিগ্রি (অনার্স) তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আর্থিক সংকটের মধ্যেও পড়াশোনার পাশাপাশি চাকরি ও টিউশনি করে পরিবারের ভরণপোষণে সহযোগিতা করতেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কক্সবাজার শহরের লালদিঘী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। পরে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকীতে পরিবার আবারও সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।