আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবকের লাশ মিলল খালে
নেত্রকোনায় পৃথক ঘটনায় মুহিদ খান(২২) এবং আহাদ নূর (২৬) নামের দুই যুবক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মুহিদ খান (২২) নেত্রকোণায় ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে শহরের রাজুর বাজার রেল কালভার্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে নেত্রকোণা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার খানে আলম খান জানান।
নিহত মুহিদ খান জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার তেতুলিয়া ইউনিয়নের বড় পাইকুড়া গ্রামের মঈনুল কবীর খানের ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
মুহিদের মামা লিলু মড়ল বলেন, আমার ভাগনে ঢাকায় পোশাক কারখানা থেকে ছুটি নিয়ে ‘হাওর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে করে বাড়িতে আসছিল। ভোরের দিকে তাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে ফায়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যাওয়ার খবর পাই।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা খানে আলম খান বলেন, মুহিদ খান ট্রেনের চাকায় কাটা পড়ে ছিটকে রেলপথের পাশে ডোবায় পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তার লাশ উদ্ধার করে নেত্রকোণা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নেত্রকোণা মডেল থানার এসআই মো. আকমল বলেন, লাশ ঘটনাস্থলেই রাখা আছে। রেল পুলিশকে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং রেল পুলিশই প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
অন্যদিকে জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলায় খালের পাড়ে বসে মোবাইল ফোনে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচ দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হন আহাদ নূর। ধারণা করা হচ্ছে তিনি খেলা দেখার সময় পানিতে পড়ে গিয়ে ডুবে যান। ঘটনার দু-দিন পর শুক্রবার সকালে উপজেলার মাঘান-মাইজহাটি গ্রামের সাপমরা খাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানান মোহনগঞ্জ থানার ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন।
নিহত আহাদ নূর (২৬) ওই গ্রামের কাঁচা মিয়ার ছেলে। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামে পরিবার নিয়ে থাকতেন। কয়েকদিন আগে তিন বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে পুলিশ জানায়, গত বুধবার রাতে খালের পাড়ে বসে মোবাইল ফোনে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের ফুটবল ম্যাচ দেখছিলেন আহাদ। রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে কোনো একসময় তিনি নিখোঁজ হন।
ওসি বলেন, পরিবারের ধারণা, খালের একেবারে কিনারায় বসে থাকায় অসাবধানতাবশত তিনি পানিতে পড়ে যান। আহাদ সাঁতার জানতেন না বলেও পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পরদিন সকাল থেকে স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। শুক্রবার সকালে স্থানীয় কয়েকজন সাপমরা খালে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
ওসি বলেন, লাশটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। এটি নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ভেসে ওঠে।
ওসি হাফিজুল ইসলাম হারুন বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।