১৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৪

পাবনায় লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স-বাস সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪

দুর্ঘটনাকবলিত যাত্রীবাহী বাস  © সংগৃহীত

পাবনার আতাইকুলায় লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সচালক এবং একই পরিবারের তিন সদস্য। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কের আতাইকুলা থানার মাধপুর সড়াডাঙ্গী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের সলিম প্রামানিক (৬৫), তার স্ত্রী বুলু খাতুন, পাবনা পৌর এলাকার উত্তর শালগাড়ীর অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখ (৩০) এবং সাত বছর বয়সী নাফিজ। আহত হয়েছেন সলিম প্রামানিকের মেয়ে নাজমিন খাতুন ও নাতি রিয়াদ সরদার।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, কিডনি রোগে আক্রান্ত সলিম প্রামানিকের নাতনি কেয়া খাতুন (১৯) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে আতাইকুলার মাধপুর সড়াডাঙ্গী এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা ‘পাবনা এক্সপ্রেস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সচালক রাজ শেখসহ দুজন নিহত হন। আহতদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথে সলিম প্রামানিক মারা যান।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা কেয়ার ছোট ভাই নাফিজ (৭) সন্ধ্যায় মারা যায়। এতে এ দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা চারজনে দাঁড়ায়।

মাধপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেয়ার মরদেহ নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ফিরছিলেন। পথে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে দুজন, হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে তিনজনকে প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহত সলিম প্রামানিক ও বুলু খাতুন মারা যাওয়া কেয়া খাতুনের নানা-নানী।