১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৫১

নামে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর, ছিল না ভাস্কর্য; ৩২ লাখ টাকার প্রকল্পের ফাইলও গায়েব

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর  © সংগৃহীত

ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশদ্বার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভা চত্বরটি সরিয়ে নিচ্ছে। এতে শহরে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমবে বলে আশা করছেন পরিবহন শ্রমিক ও স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কের সংযোগস্থলের মাঝখানে নির্মিত এই চত্বরটি ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বর’ নামে পরিচিত হলেও সেখানে কখনোই বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের কোনো ভাস্কর্য বা অবয়ব নির্মিত হয়নি। সেখানে ছিল কেবল একটি বড় পাথর। ফলে এক পাশের যানবাহন অন্য পাশ থেকে দেখতে সমস্যা হতো এবং প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হতো।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো শৈল্পিক অবয়ব ছাড়াই প্রকল্পের অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে এই চত্বর নির্মাণ করা হয়েছিল। চুয়াডাঙ্গার বাসচালক আবির মাহমুদ বলেন, পাথরটির কারণে মোড়ে গাড়ি ঘোরাতে চরম সমস্যা হতো এবং একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে। এটি অপসারণের ফলে চলাচল সহজ হবে।

এদিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা চত্বরটি অসামাজিক কার্যকলাপেরও কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল। টার্মিনালের সময় নিয়ন্ত্রক আবু জাফর জানান, সেখানে প্রকাশ্যে মলমূত্র ত্যাগ, মাদকসেবনসহ নানা অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড চলত, যা পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

ঝিনাইদহ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশেদ আলী খান জানান, ২০১৪ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ ও তৎকালীন পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু চত্বরটির উদ্বোধন করেন। প্রকল্পটির জন্য মোট ৩২ লাখ টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রাথমিকভাবে ১১ লাখ টাকা উত্তোলন করে কাজ শুরু হলেও পরে কী হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই। ভাস্কর্য নির্মাণ-সংক্রান্ত প্রকল্পের ফাইলও বর্তমানে পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি জানান।

ঝিনাইদহের সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, জনদুর্ভোগ কমানো ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চত্বরটি অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান অপসারণ কার্যক্রম সেই সিদ্ধান্তেরই বাস্তবায়ন।
ঝিনাইদহ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক আব্দুল মজিদ বলেন, সেখানে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের কোনো ভাস্কর্য নির্মাণ হয়েছে বা হওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কামালুজ্জামানও জানান, ওই স্থানে কখনো বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য নির্মিত হয়নি। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ইস্যু তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।