শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৮ দাবিতে উত্তরায় ৭ ঘণ্টা অবরোধ, ঢাকায় ঢুকতে পারেনি ২২ জেলার যানবাহন
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৮ দফা দাবিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের টানা প্রায় সাত ঘণ্টার মহাসড়ক অবরোধে মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরায় অচল হয়ে পড়ে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। এর প্রভাবে ঢাকামুখী ২২ জেলার যানবাহন কার্যত রাজধানীতে প্রবেশ করতে পারেনি। দীর্ঘ যানজটে আটকা পড়ে লাখো মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত উত্তরার বিএনএস (BNS) সেন্টারের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মহাসড়কের বিভিন্ন লেন দখল করে স্লোগান দিলে গাজীপুর-ঢাকা উভয়মুখী যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা যায়, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহণ ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে আটকে থাকে। অবরোধের প্রভাব উত্তরায় সীমাবদ্ধ না থেকে টঙ্গি, আব্দুল্লাহপুর, স্টেশন রোড, চেরাগআলী, বোর্ডবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া ও গাজীপুর চৌরাস্তাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।
যানজটে আটকে পড়া যাত্রী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, দুপুরে গাজীপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম। মাত্র ২০-২৫ কিলোমিটারের পথ পাড়ি দিতে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। শেষ পর্যন্ত অনেকটা পথ হেঁটেই গন্তব্যে যেতে হয়েছে।
ঢাকাগামী একটি বাসের চালক আব্দুল কাদের বলেন, সকাল থেকে গাড়ি নিয়ে আটকে আছি। যাত্রীরা একে একে নেমে হেঁটে চলে গেছেন। এমন দীর্ঘ যানজট জনজীবনে ভোগান্তি ছাড়া আর কিছু না।
চাকরিজীবী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, অফিস শেষে বাসায় ফিরতে চরম দুর্ভোগে পড়েছি। গণপরিবহণ না পেয়ে অনেকটা পথ হেঁটে যেতে হয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘ সময় যানবাহন আটকে থাকায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হয়। নির্ধারিত সময়ে অনেক দূরপাল্লার বাস গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটি, বিরূপ আবহাওয়া, বন্যা পরিস্থিতি এবং পরীক্ষা পরিচালনায় বিভিন্ন অসংগতির প্রতিবাদে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে— প্রশ্নপত্রের ত্রুটির দায় স্বীকার করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনা, চলমান পরীক্ষা স্থগিত, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন।
আন্দোলনকারী এক শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে রাস্তায় নেমেছি।
অবরোধ চলাকালে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। তারা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করে সড়ক ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে শিক্ষার্থীরা দাবিতে অনড় থাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।
উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বলেন, সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। পুলিশ ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। একাধিক দফায় আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক ছেড়ে দিলে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। সন্ধ্যার পর অবরোধ প্রত্যাহার হলে ধীরে ধীরে যান চলাচল শুরু হয়।