১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬

নেত্রকোনায় চিকিৎসকদের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে হাসপাতাল ভাঙচুর

নেত্রকোনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতাল  © সংগৃহীত

নেত্রকোনার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের অবহেলায় সজীব মিয়া নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন স্বজনরা। পরে পুলিশ ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

রবিবার (১২ জুলাই) রাত প্রায় ১১টার দিকে নেত্রকোনা শহরের জয়নগর এলাকায় অবস্থিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সজীব মিয়া (পেশায় পিকআপচালক) শহরের আমগাছতলা এলাকার শুকুর আলীর ছেলে।

স্বজনদের অভিযোগ, রবিবার সন্ধ্যায় গ্যাসের ব্যথা নিয়ে সজীবকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও বিদ্যুৎ না থাকার অজুহাতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. সুজন পাল যথাযথ চিকিৎসা দিতে অবহেলা করেন। একপর্যায়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সজীবের মৃত্যু হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে তারা ক্ষোভে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় নেতাদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

হাসপাতালের সুপারিনটেন্ডেন্ট ডা. ইকরামুল হাসান বলেন, ‘হাসপাতাল রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্যই রয়েছে। চিকিৎসায় হাসপাতাল বা কোনো চিকিৎসকের গাফিলতি বা ত্রুটি থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের নেই, কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তার  কথা হয়েছে এবং তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা প্রমাণিত হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। তা ছাড়াও সংসদ সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে অবহিত করা হয়েছে। তাদের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়। সদর ফাঁড়ির একটি দলও ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।