১২ জুলাই ২০২৬, ২১:১২

ফরিদপুরে বাসচাপায় আহত স্কুলছাত্রের মৃত্যু, নিহত বেড়ে ৬

নিহত নূরনবী শেখ  © সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শুয়াদি এলাকায় বাসচাপায় পাঁচজন নিহতের মর্মান্তিক ঘটনায় গুরুতর আহত আরও এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ওই দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়জনে।

রোববার (১২ জুলাই) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় নূরনবী শেখ (১২)। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের শুয়াদি গ্রামের তুহিন শেখের ছেলে এবং কাইচাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের শুয়াদি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডিমবোঝাই একটি মিনি পিকআপের চাকা ফেটে গাড়িটি উল্টে যায়। খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার একটি রেকার দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি সরাতে ঘটনাস্থলে যায়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রেকার গাড়ি উদ্ধারকাজ চালানোর সময় আশপাশে উৎসুক শিশু, কিশোর ও স্থানীয় লোকজন দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা নড়াইল এক্সপ্রেস পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে চাপা দেয়।

ঘটনাস্থলেই একই গ্রামের চারজন নিহত হন। পরে রেকারের এক সহযোগী হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। গুরুতর আহত নূরনবী শেখ, আকাশ ও সেতুকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে নূরনবীর মৃত্যু হয়।

এদিকে, একই গ্রামের চারজন নিহত হওয়ায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যেই তিনজনের জানাজা একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় এবং পাশাপাশি দাফন করা হয়। নিহত নূরনবী শেখকে বিকেল ৫টায় দাফন করা হবে বলে তার পরিবার জানিয়েছে।

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, এ ঘটনায় ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতদের দাফন শেষে স্বজনরা মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। দুর্ঘটনায় জড়িত ঘাতক বাস, ডিমবোঝাই পিকআপ এবং আরও দুটি বাস জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, গত এক মাসে ভাঙ্গা উপজেলার মহাসড়কে চাকা বিকল বা দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সড়কে দাঁড়িয়ে থাকার সময় একের পর এক সংঘর্ষে বাবা-ছেলেসহ অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। তারা মহাসড়কে পুলিশি টহল জোরদার, দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম নিশ্চিত করা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার আওতা বাড়ানোর দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।