১১ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৪

ঝিনাইদহে এক রাতে ৭ গরু চুরি, আতঙ্কে খামারিরা

মেগুরখির্দ্দা গ্রামে সুমন মাস্টারের গোয়ালের তালা ভেঙে গরু চুরি  © টিডিসি ফটো

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে এক রাতে অন্তত ৭ টি গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক চুরির ঘটনায় খামারি ও কৃষকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সর্বশেষ শুক্রবার (১০ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার পৃথক তিনটি স্থান থেকে গরুগুলো চুরির ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ পৌরসভার বলিদাপাড়া গ্রাম থেকে ৩টি, রায়গ্রাম ইউনিয়নের আগমুন্দিয়া গ্রাম থেকে তিনটি ও মেগুরখির্দ্দা গ্রাম থেকে ১ টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোর চক্র।

এ বিষয়ে বলিদাপাড়া গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতে গরুকে খাবার দিয়ে গোয়ালঘরে তালা লাগিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। তার স্বামী অসুস্থ থাকায় রাত ৩টার দিকে ঘুমাতে যান। সকালে ঘুম থেকে উঠে গোয়ালে গিয়ে দেখেন আড়াই মাস বয়সি একটি বাছুর ছাড়া আর কোনো গরু নেই। 

একই রাতে উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের আগমুন্দিয়া গ্রাম থেকেও তিনটি গরু চুরি হয়। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, আমার স্বপ্নের মতো লালন-পালন করা দুটি গরু চোরেরা নিয়ে গেছে। এছাড়া আমার চাচাতো ভাইয়ের গোয়াল থেকেও একটি গরু চুরি হয়েছে। এভাবে একের পর এক গরু চুরি হলে আমরা কীভাবে বাঁচব?

এছাড়া একই ইউনিয়নের মেগুরখির্দ্দা গ্রামে সুমন মাস্টারের গোয়ালের তালা ভেঙে একটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ পৌরসভার ঈশ্বরবা গ্রামে একটি খামার থেকে একটি গাভী চুরি হয়। ওই ঘটনার দৃশ্য খামারের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে।

কালীগঞ্জ পৌর কৃষক দলের সভাপতি ফুরকান আলী বলেন, উপজেলায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। কয়েকদিন আগেও ধারাবাহিকভাবে সেচ পাম্প চুরি হয়েছে। আমার নিজেরও একটি সেচ পাম্প চুরি হয়েছে। দ্রুত চোরচক্রকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।

সার্বিক বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল রহমান বলেন, গরু চুরির ঘটনায় আজ থানায় অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ কাজ করছে।