সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হওয়ায় এসব উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, সাঙ্গু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার ফলে পানি লোকালয়ে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এতে অধিকাংশ গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ বেড়েছে। এতে বড়দুয়ারা, মাহালিয়া, কাটাখালীকুল, নতুনপাড়া ও বটতল হিন্দু পাড়ার অধিকাংশ ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। আবার অনেক এলাকায় বসতঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, বাজার ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে সেখানকার পানিবন্দি পরিবারগুলোর রান্নাবান্না, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে বুধবার রাতে সাতকানিয়া পৌরসভার রামপুর বায়তুশ শরফ এলাকায় ডলু নদীর পাড় ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করা শুরু করলে একাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপর দিকে উপজেলার সোনাকানিয়া, ছদাহা, বাজালিয়া, কেঁওচিয়া, ঢেমশা, পুরানগড়, আমিলাইষ ও কাঞ্চনা ইউনিয়নের বিভিন্ন খালের পানি পাড় উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করার ফলে অসংখ্য মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। এ ছাড়াও দস্তিদার হাট ও বুড়ির দোকান ব্রিজ এলাকায় কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে হাসমতের দোকান এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের উপর দিয়ে সীমিত পরিসরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুরানগড় ইউনিয়নের সবজিচাষি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘উজান থেকে নেমে আস পাহাড়ি ঢলে সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমার ৬০ শতক জমির বরবটি ও করলা ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আমার মতো আরও অনেকের একই অবস্থা। বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠজুড়ে পানি আর পানি।’
বাজালিয়া ইউনিয়নের মাহালিয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের চলাচলের একমাত্র সড়কটিতে বুকসমান পানি। নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। কোথাও কোমরসমান আবার কোথাও বুকসমান পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এখানকার শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। আমি কোনোরকমে নৌকা নিয়ে বাজারে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল আনতে সক্ষম হয়েছি।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ঢেমশা ইউনিয়নের শুকনো খাবার বিতরণ করা শুরু করেছি। এরপর পর্যায়ক্রমে সোনাকানিয়া, বাজালিয়া, ছদাহা ও আমিলাইষ ইউনিয়নে বিতরণ করা হবে। এ ছাড়াও উপজেলার জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণসামগ্রী এসে পৌঁছালে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বণ্টন করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে দেড় হাজার পানিবন্দি পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার পৌঁছানোর কার্যক্রম শুরু করেছি। তবে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ কাজে বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও যত দ্রুত সম্ভব সহায়তা পৌঁছাতে আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’