টানা বর্ষণে ভোলার মনপুরায় পানিবন্দি হাজারো পরিবার
টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিস্তীর্ণ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নিম্নাঞ্চলের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়ন ও ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডসহ কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, টানা বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের সুযোগ না থাকায় অনেক বাড়ির আঙিনা ও বসতঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে শিশু, নারী ও বয়স্কদের চলাচল এবং দৈনন্দিন কাজকর্মে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবুল কালাম বলেন, তিনদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। ঘরের চারপাশে পানি জমে গেছে, অনেক জায়গায় ঘরেও পানি ঢুকেছে। ছোট ছোট বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। পানি দ্রুত না নামলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
আরেক বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই দুর্ভোগে পড়তে হয়। পানি জমে থাকায় রান্নাবান্না থেকে শুরু করে সব ধরনের দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক মানুষদের।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২২ সালে শুরু হওয়া উপকূলীয় টেকসই বেড়িবাঁধ প্রকল্পের কাজ এখনও বিভিন্ন স্থানে চলমান। পাশাপাশি কয়েকটি এলাকায় পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নামতে পারছে না। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে বিভিন্ন এলাকার কাঁচা ও আধাপাকা সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় কাজে বের হতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।
জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, বন্ধ হয়ে যাওয়া জলপ্রবাহের পথ সচল করা এবং চলমান উন্নয়নকাজ দ্রুত ও পরিকল্পিতভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে বর্ষা মৌসুমজুড়ে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।