০৮ জুলাই ২০২৬, ১৩:০৮

চাঁদাবাজি-দখলবাজির অভিযোগে রাজাপুর ছাত্রদল সভাপতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন

রাজাপুর উপজেলার লেবুবুনিয়া বাজার-সংলগ্ন সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে স্থানীয়দের মানববন্ধন  © টিডিসি

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার সাতুরিয়া ইউনিয়নের লেবুবুনিয়া এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও দখলবাজির অভিযোগে ছাত্রদল সভাপতি সজীবসহ তার ভাইদের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও ঝাড়ুমিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে লেবুবুনিয়া বাজার-সংলগ্ন সাতুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 

এ  সময় ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হেমায়েত উদ্দীন, তার ছেলে সাতুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সজীবসহ পরিবারের কয়েক সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী সামীম আকন, মোসা. ছবি আক্তার, সানজিদা, নাছরিন ও হান্নান আকন।  

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, মো. হেমায়েত উদ্দীন ও তার তিন ছেলে—সজীব, বাবুল ও আলম এবং ছাত্রলীগ কর্মী কাইফ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও দখলবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা দাবি করেন, কয়েক দিন আগে লেবুবুনিয়া বাজারে ডাবের ব্যবসা পরিচালনার জন্য সজীব দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হলেও বাকি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

বক্তারা আরও বলেন, এসব অনিয়ম ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় কয়েকজনকে মারধরের শিকার হতে হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য, লেবুবুনিয়া বাজারে ছাত্রদল সভাপতি সজীবের বড় ভাই আলম ও শামিম আকন উভয়েই ডাব ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বাজারে ব্যবসার একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে গত ৬ জুলাই আলম শামিম আকনের কেনা ডাব ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ডাব ফিরিয়ে আনতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সাতুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি সজীব বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তার ওপর হামলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও দখলবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এ বিষয়ে রাজাপুর থানার তদন্ত ওসি ফিরোজ কামাল জানান, এখন পর্যন্ত কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।