০৬ জুলাই ২০২৬, ১৭:১৪

পিইডিপি-৪-এর মেয়াদ শেষ: সাতক্ষীরায় ১৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণকাজ এখনো অসমাপ্ত

নির্মাণকাজ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন  © টিডিসি

চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হলেও সাতক্ষীরা জেলার ১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় জেলার ১৩০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টির কাজ শেষ হলেও বাকি বিদ্যালয়গুলোর নির্মাণকাজ ঝুলে রয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, আশাশুনি উপজেলার দক্ষিণ কাদাকাটি কালীবাড়ি, দয়ারঘাট, বুড়িয়া ও গোয়ালডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; তালা উপজেলার শিরাশুনি, ওমরপুর ও উত্তর শাহজাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়; শ্যামনগর উপজেলার বাইনতলা, গাবুরা, গাবুরা খোলপেটুয়া ও পশ্চিম কৈখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ও বাজুয়াডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণকাজ এখনো শেষ হয়নি।

আশাশুনি উপজেলার দক্ষিণ কাদাকাটি কালীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুমিতা চৌধুরী বলেন, ২০২৪ সালে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তা শেষ হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পের মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। এখন অবশিষ্ট কাজ কীভাবে শেষ হবে, তা নিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবন নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় অনেক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালনা করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। নতুন ভবন ব্যবহারের অপেক্ষায় রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন বলেন, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে গুণগত মান নিশ্চিত করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ধরনের ত্রুটিপূর্ণ কাজ গ্রহণ করা হবে না। প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্মাণকাজ যথাযথভাবে বুঝে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম তারিকুল হাসান খানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এদিকে আশাশুনি উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নির্মাণকাজ সম্পন্ন না করেই বিল পরিশোধের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তদন্ত শেষে তাকে শাস্তিমূলকভাবে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও গুরুত্বপূর্ণ এই শিক্ষা অবকাঠামোর নির্মাণকাজ অসমাপ্ত থাকায় দ্রুত কাজ শেষ করে বিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।