০৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:১০

ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণের বিরোধে যুবককে অপহরণ ও মারধরের অভিযোগ বিএনপি তিন নেতার বিরুদ্ধে

ভুক্তভোগী মো. নাসির উদ্দিন মৃধা  © সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন মৃধা (৪০) অপহরণ ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপির কয়েকজন স্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

বৃহস্পতিবার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে অভিযান চালিয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বাউফল উপজেলার ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে তাঁকে পটুয়াখালী জেলা শহর থেকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

পুলিশের সহায়তায় মুক্ত হওয়ার পর নাসির উদ্দিন অভিযোগ করেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী, বাউফল পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ পলাশ এবং বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী জুলহাস হোসেনের নেতৃত্বে তাঁকে অপহরণ করে আটকে রেখে মারধর করা হয়।

ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত একটি মামলায় হাজিরা দিতে বৃহস্পতিবার সকালে পটুয়াখালী আদালতে যান নাসির। আদালতের কার্যক্রম শেষে একটি হোটেলে খাবার খাওয়ার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ফেলেন। এ সময় তাঁরা দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থান জানতে চান। তিনি বিষয়টি জানেন না বললে তাঁর চোখ বেঁধে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁকে মুক্তি দিতে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়।

নাসির উদ্দিন আরও দাবি করেন, অপহরণকারীরা তাঁর বিকাশ অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ হাজার টাকা এবং সঙ্গে থাকা সাড়ে ৩ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর বিরোধ রয়েছে। নাসির উদ্দিন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী বলেন, নাসির উদ্দিনকে তিনি মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে জানতেন, তবে অপহরণের ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

একইভাবে বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহ পলাশও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অপহরণের মতো কোনো ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে। ঘটনাটি পটুয়াখালী সদর ও বাউফল—দুই থানার এলাকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ভুক্তভোগী যেকোনো থানায় মামলা করতে পারবেন। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।