৩০ জুন ২০২৬, ২২:০৯

প্রধান শিক্ষকের কক্ষে সাবেক স্ত্রীর অনশন, বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ

বামে প্রধান শিক্ষক রোস্তম আলী মণ্ডল  © সংগৃহীত

গাইবান্ধা সদর উপজেলার পিয়ারাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোস্তম আলী মণ্ডলের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও নবজাতক সন্তান হত্যার অভিযোগ এনে তাঁর সাবেক স্ত্রী শাহানা বেগম বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে অনশনে বসেছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের মুখে প্রধান শিক্ষক পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে শাহানা বেগম প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করে অনশন শুরু করেন। এ সময় তিনি একটি লিখিত আবেদনপত্রে ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত এবং নবজাতক সন্তান হত্যার বিচার দাবি করেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং তাঁর পদত্যাগ দাবি জানান।

অভিযোগ অনুযায়ী, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা শাহানা বেগমের সঙ্গে ২০১৯ সালে গোপনে বিয়ে করেন রোস্তম আলী মণ্ডল। পরে শাহানা বেগমের পূর্ববর্তী স্বামীর জমি বিক্রির ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিভিন্ন অজুহাতে নিজের কাছে নেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শাহানা বেগম আরও অভিযোগ করেন, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি তিনি একটি নবজাতক সন্তানের জন্ম দেন। জন্মের পরপরই রোস্তম আলী পরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে হত্যা করে পুরোনো কাপড়ে জড়িয়ে গাইবান্ধা পৌর কবরস্থানে দাফন করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম বাবু এবং সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অনশনকারী শাহানা বেগম ও প্রধান শিক্ষককে থানায় নেওয়া হয়।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনশনকারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর অভিযোগগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ দিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।