৩০ জুন ২০২৬, ১৫:১০

গোসল শেষে বাড়ি ফিরে মায়ের রান্না করা মাংস-পোলাও খাওয়ার কথা ছিল তামিমের, তবে...

মো. তামিম মিয়া  © সংগৃহীত

গোসল শেষে বাড়ি ফিরে মায়ের রান্না করা মাংস-পোলাও খাওয়ার কথা ছিল মো. তামিম মিয়া (১১)। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো তার নিথর দেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নিখোঁজের এক দিন পর পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তৃতীয় শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর মরদেহ।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলহাজ নিশাই সরকার জামে মসজিদের পুকুর থেকে তামিমের মরদেহ উদ্ধার করেন তার স্বজনরা।

নিহত মো. তামিম ওই এলাকার কুয়েতপ্রবাসী মো. রনি মিয়ার একমাত্র ছেলে ও গফরগাঁও ইসলামিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে সহপাঠী ও অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলা শেষে আলহাজ নিশাই সরকার জামে মসজিদের পুকুরে গোসল করতে নামে তামিম। এ সময় তামিম পুকুরের পানিতে তলিয়ে যায়। সহপাঠীরা তাকে খুঁজে না পেয়ে স্বজনদের খবর দেয়। স্বজনরা পুকুর পাড়ে এসে তামিমের জুতো জোড়া পড়ে থাকতে দেখে পুকুরের পানিতে তুলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন।

পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল, স্বজনরা ও স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় জাল ফেলে চেষ্টা চালিয়ে নিখোঁজ তামিমের সন্ধান পায়নি। মঙ্গলবার সকালে পুকুর ঘাটের সামনে তামিমের মরদেহ ভেসে ওঠলে স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করেন।

নিহত তামিমের মা শিল্পী আক্তার একমাত্র সন্তানের জুতো জোড়া বুকে চেপে বিলাপ করে বলেন, ‘বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় ছেলে আমাকে বলে, মা তুমি গোস্ত-পোলাও রান্ধ, আমি গোসল করে বাড়ি এসে খাব। আমি তো গোস্ত-পোলাও রান্না করছি। আমার বাজান তো বাড়ি আইল না। আল্লাহ আমার এই গোস্ত পোলাওকে খাবে।’

গফরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান সেখ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।