২৯ জুন ২০২৬, ১৯:০৫

তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই, নদী ভাঙনের কবলে শতাধিক পরিবার

নদী ভাঙনের পতিত একটি পরিবার  © সংগৃহীত

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পানিবৃদ্ধিতে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে আবারও বাড়ছে তিস্তার ভয়াল রূপ। মাত্র ২৪ ঘণ্টায় নদীর পানি ৭৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছেছে। আর পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তীব্র হচ্ছে নদীভাঙন। একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার শেষ সম্বল নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় শতাধিক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি। স্থানীয়দের আশঙ্কা, আজ সন্ধ্যার মধ্যেই তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৫টা থেকে সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৭৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। কোথাও বসতবাড়ি, কোথাও আবাদি জমি, আবার কোথাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিনই নদী গিলে খাচ্ছে মানুষের বহু বছরের সঞ্চয়ে গড়া স্বপ্ন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ী ইউনিয়নের কালির খামার গ্রামের শখের বাজার, হরিপুর ইউনিয়নের চর চরিতাবাড়ী, রাঘব, চণ্ডীপুর ইউনিয়নের উত্তর সীচা, কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, কেরানীর চর, মিন্টু মিয়ার চর ও বাদামের চর এলাকা। এসব এলাকায় ইতোমধ্যে অন্তত দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটা এবং দেড় শতাধিক বিঘা আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজু মিয়া বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের লালচামার এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কেরানীর চরে ভয়াবহ ভাঙন চলছে। অব্যাহত ভাঙনে অন্তত ২০০ পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে। শতাধিক বিঘা ফসলি জমিও নদীতে বিলীন হয়েছে। মানুষ এখন চরম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।’

ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছরই একই দুর্ভোগের শিকার হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করতে করতে অনেক পরিবার একাধিকবার বসতভিটা হারিয়েছে। এখন আবারও তারা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়ের শঙ্কায় দিন গুনছেন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলার নদীতীরবর্তী ও চরাঞ্চলের ২০ থেকে ২৫টি স্থানে ভাঙন শুরু হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভাঙন রোধে কাজ চলছে।’