১৫ হাজার টাকার কিস্তির চাপে সেই প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা
ফেনীর ফুলগাজীতে কুয়েতপ্রবাসীর স্ত্রী বিবি কুলসুম আক্তার কাজল (৩৬) হত্যা মামলার প্রধান সন্দেহভাজন মো. আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। র্যাবের দাবি, একটি এনজিওর ১৫ হাজার টাকার ঋণের কিস্তির চাপ থেকে টাকার ব্যবস্থা করতেই তিনি মুখোশ পরে রাতে ঘরে ঢুকেছিলেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কাজলকে হত্যা করে পালিয়ে যান।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ফেনীস্থ র্যাব ক্যাম্পে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাব-৭ ফেনী ক্যাম্পের অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লিডার মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর র্যাব ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সর্বশেষ রোববার (২৮ জুন) রাত থেকে আজ সকাল ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ফুলগাজীর উত্তর ধর্মপুর এলাকা থেকে প্রধান সন্দেহভাজন মো. আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে তার মুখে ও হাতে নক- কামড়ের দাগ দেখে তাকে সন্দেহ করা হয়।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তি জানিয়েছেন, একটি এনজিও থেকে সে ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণের মাসিক কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েন। টাকার জন্য মুখ বেঁধে সেদিন ভোররাত ৪টার দিকে চালের টিন কেটে কুলসুম আক্তার কাজলের ঘরে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে কাজলকে হাত-পা, মুখ বেঁধে, মাথা ধরে ঘরের মেঝেতে আঘাত করে হত্যা করেন। এ সময় কাজলের সঙ্গে থাকা আড়াই বছরের ছেলে নাহিমের কোনো ক্ষতি করা হয়নি। সেদিন ফজরের নামাজের সময় প্রতিবেশীরা কুলসুমা আক্তার কাজলের গোঙানির শব্দ শুনে বাড়িতে জড়ো হতে শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আরিফ ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
মিজানুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফুলগাজী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার (২৭ জুন) ভোরে পাশের বাড়ির এক ব্যক্তি ঘরের ভেতর থেকে গোঙানির শব্দ শুনে স্থানীয়দের ডাকেন। পরে কয়েকজন ছাদে উঠে টিন কাটা দেখতে পান এবং ঘরে ঢুকে কাজলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এ ঘটনায় রবিবার নিহতের বাবা আবদুর রশীদ বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় ২-৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন।