দুই মাস বেতন বন্ধ, আর্থিক সংকটে বিনা চিকিৎসায় মাদ্রাসা কর্মচারীর মৃত্যু
অর্থাভাবে চিকিৎসা ছাড়াই না ফেরার দেশে পারি জমিয়েছেন টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার দেওপাড়া বাহারুন নেছা দাখিল মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হারুন-উর-রশীদ। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক এবং পরিবারের দাবি, মে মাসের বেতন না পাওয়ায় প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত অসুস্থতা বেড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
জানা যায়, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন শিক্ষক-কর্মচারীরা সর্বশেষ এপ্রিল মাসের বেতন পেয়েছেন। এরপর মে ও জুন মাসের বেতন বন্ধ থাকায় সারা দেশের অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর মতো হারুন-উর-রশীদও চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। ঈদুল আজহা পার হলেও বেতন না পাওয়ায় পরিবারের ভরণপোষণ, ধার-দেনা এবং চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হয় তাকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৃত হারুন উর রশীদের দুই ছেলে এবং এক ছোট মেয়ে। স্বল্প বেতনের চাকরিতেই কোনোভাবে সংসার চলছিল। প্রতি মাসের বেতন হাতে পেয়েই নিয়মিত ওষুধ কিনতেন। কিন্তু মে মাসের বেতন বন্ধ থাকায় সেই সুযোগ আর হয়নি।
পরিবার ও সহকর্মীদের অভিযোগ, সময়মতো বেতন না পাওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায় এবং সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে মানসিক চাপ। তাদের দাবি, বেতন বন্ধ না হলে হয়তো নিয়মিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো।
প্রতিষ্ঠানটির সহকারী শিক্ষক মো. মোফাচ্ছের আলী জানান, হারুন-উর-রশীদ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও বেলস পালসিতে (মিনি স্ট্রোক) আক্রান্ত ছিলেন। প্রতি মাসে বেতন পেয়েই ওষুধ কিনতেন। কিন্তু মে ও জুন মাসের বেতন না পাওয়ায় টাকার অভাবে ওষুধ কিনতে পারেননি। এতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। আর্থিক দুশ্চিন্তার মধ্যেই তিনি আবার স্ট্রোক করেন এবং শেষ পর্যন্ত মারা যান।
মাদ্রাসার সুপার (প্রধান) মো. ছানাউল হক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ঠিকমতো বেতন না পেয়ে পরিবারের ভরণপোষণ নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতেন হারুন। বেতন না পাওয়ার মানসিক যন্ত্রণা তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে।
হারুন-উর-রশীদের স্ত্রী রিজিয়া খাতুন বলেন, দুই বছর আগে তার স্ট্রোক হয়েছিল। চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হলেও নিয়মিত ওষুধ খেতে হতো। মে মাসের বেতন না হওয়ায় তিনি খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন। আমাদের দুই ছেলে আর এক মেয়ে। ছেলেরা এখনো বেকার। সংসারের সব দায়িত্ব তার কাঁধেই ছিল। তিনি দুশ্চিন্তা করবেন না তো কে করবে?