২৮ জুন ২০২৬, ১৩:৫২

ময়মনসিংহে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে ট্রাক্টর পার্কিং

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ৭১ নম্বর চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (ইনসেটে মাঠে রাখা ট্রাক্টর)  © টিডিসি

বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ দখল করে মাটি বহনকারী ট্রাক্টর পার্কিং করায় খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ৭১ নম্বর চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদিকে মাঠ দখলের পাশাপাশি জরাজীর্ণ ভবন, ফাটল ও ধসে পড়ার ঝুঁকির মধ্যে আতঙ্কে চলছে বিদ্যালয়ের পাঠদান।

 জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে ৫০ শতাংশ জায়গার ওপর চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে স্কুলটির শিশু থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত  শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৭৯ জন। বিপরীতে ৮ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন।
 
স্কুলের শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকাবাসী জানান, অন্যান্য স্কুলের চেয়ে চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ালেখার মান তূলনামূলক অনেক ভালো। কিন্তু খেলার মাঠ দখল করে রেখেছে মাটি বহনে ব্যবহৃত ট্রাক্টর। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এ ছাড়া বিদ্যালয় ভবন ঘেঁষে আছে স্থানীয় আবদুস ছাত্তার ফকিরের একটি পুকুর। ফলে পুকুরের পাড় ভাঙতে ভাঙতে বিদ্যালয়ের একটি ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে পুকুরে। তবু টনক নড়েনি আবদুস ছাত্তারের। বরং স্কুল মাঠের পানিনিষ্কাশনের ড্রেন বন্ধ করে মাঠে জলাবদ্ধতা ও কাদা জমিয়েছেন তিনি। এতেও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও খেলাধুলায় প্রভাব পড়েছে।
  
চরহোসেনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বলে, ‘স্কুল মাঠে রাখা ট্রাক্টর ও কাদার কারণে আমরা খেলাধুলা করতে পারি না। আমাদের শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করলে ভয় লাগে, কখন যেন ভেঙে পড়ে যায়। খেলাধুলার জন্য আমরা পরিষ্কার মাঠ ও পড়ালেখার জন্য নতুন ভবন চাই।’

আরও পড়ুন: তরুণকে আটকে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি, ঢাবি শিক্ষার্থীসহ গ্রেফতার ৩

স্থানীয়রা বলেন, ‘যারা স্কুল মাঠে ট্রাক্টর রাখেন তারা অত্র এলাকার বাসিন্দা। মাঠে ট্রলি রাখা ও জলাবদ্ধতার কারণে ছাত্রছাত্রীরা খেলাধুলা করতে পারে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে এবং বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আমরা কাকে কী বলব বলেন? সবাই তো এলাকার মানুষ।’
  
সরেজমিন স্কুল মাঠে কোনো ট্রাক্টরচালককে পাওয়া যায়নি। তবে মুঠোফোনে জাহাঙ্গীর ফকির নামের এক ট্রাক্টর চালক বলেন, ‘স্কুল মাঠে ট্রাক্টর রাখা মোটেও উচিত না। আমার ট্রাক্টর বাড়িতে রাখি। যারা মাঠে ট্রাক্টর রাখে, তাদের বারবার নিষেধ করলেও কথা শুনে না।’
 
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক শরিফুন নাহার বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের  উপস্থিতি এবং ড্রেসআপ শতাভাগ। ভালো ফলের পাশাপাশি খেলাধুলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম হয়েছে আমাদের স্কুল। কিন্তু স্কুল মাঠ দখল করে অবৈধভাবে মাটি টানার ট্রাক্টর পার্কিং ও জলাবদ্ধতার ফলে কাদা সৃষ্টি হওয়ায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারে না। এ নিয়ে ট্রাক্টর চালকদের বারবার নিষেধ করলেও তারা কথা শুনে না। স্কুল ভবনের অবস্থাও খুব খারাপ। একটি ভবন অনেকটা ধসে পড়েছে। সব ভবনের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং পলেস্তারা খসে পড়ছে। ফলে কখন কী হয়ে যায়, সে কারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে আছে। স্কুল মাঠ থেকে ট্রাক্টর অপসারণ করতে হলে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে নিতে অতি দ্রুত নতুন ভবন দরকার। পাশাপাশি সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। এ জন্য আমি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।’

আরও পড়ুন: নতুন শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু কবে, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
 
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সৈয়দ আহমেদ বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের উচিত ছিল স্কুল মাঠে ট্রাক্টর না রাখার ব্যাপারে কঠোর হওয়া। তিনি ব্যর্থ হলে আমাদের জানাতে পারতেন। যেহেতু এখন জেনেছি, ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।’

ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এসব বিদ্যালয়ের প্যালাসাইডিং ও মেরামতেরর জন্য মন্ত্রণালয়ে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুতই সমস্যা সমাধান হবে। সেই সঙ্গে স্কুলের সীমানাপ্রাচীর ও অন্যান্য সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।’
 
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা রহমান বলেন, স্কুল মাঠে গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ। শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই। সব সমস্যার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।