২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩১

জেলা প্রশাস‌কের হস্ত‌ক্ষে‌পে রক্ষা পে‌ল শতবর্ষী বটগাছ

জেলা প্রশাস‌কের হস্ত‌ক্ষে‌পে রক্ষা পে‌ল শতবর্ষী বটগাছ  © সংগৃহীত


শেরপুর সদর উপজেলার একটি ঈদগাহ মাঠের শতবর্ষী বটগাছ কাটার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত বন্ধ করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে। পরিবেশবাদীসহ বিভিন্ন মহলের প্রতিবাদের মুখে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় গাছটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়,  ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটি ও স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে শতবর্ষী বটগাছটি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। 

এ বিষয়ে শনিবার (২৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রির জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিটি পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ দ্য ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড ন্যাচার (সোয়ান)-এর শেরপুর জেলা শাখার নজরে এলে সংগঠনের সভাপতি মো. নাঈম ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা প্রশাসক, বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গাছটি সংরক্ষণের দাবি জানান।

এরপর জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা পেয়ে ইউএনও ছোট ঝাউয়ের চর নামাপাড়া পুরাতন ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটি এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শতবর্ষী বটগাছটি সংরক্ষণের নির্দেশনা দেন। ফলে গাছটি বিক্রির উদ্যোগ স্থগিত করা হয়।

সোয়ানের সদস্য পারভেজ বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় যেখানে রাষ্ট্রপ্রধান তারেক রহমান সারাদেশে বৃক্ষরোপণের কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছেন এবং তা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেখানে একটি শতবর্ষী গাছ বিক্রির জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে বন বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নীরব ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

স্থানীয়দের মতে, শতবর্ষী এই বটগাছটি শুধু একটি বৃক্ষ নয়, বরং এলাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই ভবিষ্যতেও গাছটি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।