২৭ জুন ২০২৬, ১১:২৪

আশুলিয়ায় জমি বিক্রি না করায় মালিকের ওপর হামলার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে, বাড়িছাড়া ভুক্তভোগী পরিবার

জোরপূর্বক মাটি বিক্রি করা কৃষি জমি  © টিডিসি ফটো

ঢাকার ধামরাই উপজেলার রূপনগর এলাকায় সাভার পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি আবুল হোসেন আবু মোল্লার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখল, কৃষিজমির মাটি বিক্রি এবং জমির মালিককে হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেছেন, বরং প্রতিপক্ষ তার লোকজনকে মারধর করেছে।

ভুক্তভোগী খোকন মোল্লার অভিযোগ, রূপনগর এলাকায় তার ১০ শতাংশ পৈত্রিক তিন ফসলি কৃষিজমি রয়েছে, যার পাশেই আবু মোল্লার জমি। গত ২৪ জুন রাতে তার জমির মাটি ইটভাটার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করলে আবু মোল্লা তাকে জমিটি ছেড়ে দিতে বলেন এবং ২০ লাখ টাকার প্রস্তাব দেন। তিনি জমির বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা উল্লেখ করে বিক্রিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে আবু মোল্লা ও তার সহযোগীরা তার এবং তার ছেলের ওপর হামলা চালান।

খোকন মোল্লা বলেন, “রুপনগর এলাকায় আমার ১০ শতাংশ পৈত্রিক কৃষি জমি রয়েছে। আমার জমির সাথেই আবুল হোসেন আবু মোল্লারও জমি রয়েছে। গত ২৪ জুনে রাতের আঁধারে আমার তিন ফসলা কৃষি জমির মাটি ইটভাটার নিকট বিক্রি করে দেয় আবু মোল্লা। মাটি বিক্রির বিষয়টি আমি জানার পর আবু মোল্লার নিকট কৈফিয়ত চাইলে, সে আমাকে বলে- ‘এই জমি তুই আর ফেরত পাবি না। তোকে ২০ লক্ষ টাকা দেই, জমিটা আমাকে দিয়ে দে।’ তখন আমি আবু মোল্লাকে জানাই, আমার ৫০ লক্ষ টাকার জমি আপনার নিকট ২০ লক্ষ টাকয় বিক্রি করবো কেনো? তাছাড়া এই জমিতে আমি শস্য উৎপাদন করি। আমি জমি বিক্রি করবো না। এভাবেই কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আবু মোল্লাসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর লোকজন আমার এবং ছেলের ওপর অতর্কিত হামলা করে বসে।” 

এদিকে আবু মোল্লা ও তার সহযোগীরা তাদের পরিবারকে হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন খোকন মোল্লার স্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আবু মোল্লা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী আমার পরিবারকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। প্রাণনাশের আশঙ্কায় আমি বসতবাড়ি ছেড়ে গরু-ছাগল এবং স্বামী-সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে এসেছি। আমি সরকারের নিকট বিচার এবং নিরাপত্তা চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে আবুল হোসেন আবু মোল্লা বলেন, তিনি কারও জমির মাটি বিক্রির সঙ্গে জড়িত নন এবং হামলার ঘটনাও ঘটাননি। তার দাবি, খোকন মোল্লাই তার লোকজনকে মারধর করে আহত করেছেন।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের জন্য উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।