ঝিনাইদহে স্বামী হত্যা মামলায় পরকীয়া প্রেমিকসহ স্ত্রীর যাবজ্জীবন
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার আলোচিত মুকুল মল্লিক হত্যা মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক গৌতম কুমার ঘোষ এ রায় ঘোষণা করেন।
দন্ডিতরা হলো-নিহত হরিণাকুন্ডু উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের মুকুল মল্লিকের স্ত্রী ফিরোজা খাতুন, তার পরকীয়া প্রেমিক একই গ্রামের মিঠু মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন ও নাসির উদ্দিন মন্টুর ছেলে ফারুক হোসেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৬ এপ্রিল রাতে গোপিনাথপুর গ্রামের মুকুল মল্লিক তার বাড়িতে স্ত্রী ফিরোজা ও তার পরকীয়া প্রেমিক আলমগীরকে অপ্রীতিকর অবস্থায় দেখতে পান। সেসময় স্ত্রী ফিরোজা খাতুনের সহযোগিতায় আলমগীর ও নাসির উদ্দিন মন্টু মুকুলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে গ্রামের একটি ধানক্ষেতে পুঁতে রাখে। ঘটনার ৬ দিন পর ধানক্ষেতে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের মা আর্জিনা বেগম হরিণাকুণ্ডু থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে পরকীয়াজনিত কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে ২০১৮ সালের ৬ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত নিহতের স্ত্রী মোছা. ফিরোজা খাতুন, মো. আলমগীর হোসেন ও মো. বিল্লাল হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।
অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মো. ফারুক হোসেন ও মো. মাসুদ রানাকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
এ মামলার অন্যতম আসামি আলমগীর হোসেন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা উল্লেখপূর্বক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।