২৪ জুন ২০২৬, ১২:৩৫

লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের পর বিদ্যালয় ভাঙচুর, সাবেক এমপিসহ ১৭৯ জনের নামে মামলা

শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান  © সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের (১৪) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের পর প্রতিষ্ঠানটিতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খানসহ ১৭৯ জনকে মামলাটিতে আসামি করা হয়েছে।

গত সোমবার রাতে রামগঞ্জ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরই মধ্যে মামলার তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে রামগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় মেহেদী হাসানকে মুঠোফোন চুরির অপবাদ দিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মামলাটিতে আটজনের নাম উল্লেখ করে আরও ৯-১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

১৬ জুন বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই দিন রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ লোকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালান। পরে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৬ জুন ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির সামনে আসামিরা উপস্থিত হয়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হন। বাদী ও সাক্ষীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাঁদের ওপর হামলা হয়। তাদের মারধর ও জখম করেন আসামিরা। একই সময়ে আসামিরা ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিতেও ভাঙচুর করেন। শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জনরোষকে কাজে লাগিয়ে আসামিরা পরিকল্পিতভাবে একাডেমিতে হামলা-ভাঙচুর করে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ার হোসেন খানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। তিনি ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।

রামগঞ্জ থানার ওসি ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমিতে হামলা, ভাঙচুর, কয়েকজনকে মারধর এবং নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি হয়েছে। এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।