২৪ জুন ২০২৬, ১০:০৬

ঈশ্বরগঞ্জে পুকুরপাড়ের গাইড ওয়াল অপসারণের অভিযোগ, এক মাসেও পাম্প অপারেটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হয়নি

পাম্প অপারেটর মো. কাঞ্চন মিয়া  © টিডিসি ফটো

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারের পাম্প অপারেটর মো. কাঞ্চন মিয়ার বিরুদ্ধে পুকুরপাড়ের ৫০টি টিনশেডের গাইড ওয়াল অপসারণ ও বিক্রির অভিযোগ উঠলেও এক মাস পেরিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে খামার কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের মধ্যে দায়ভার ঠেলে দেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। ফলে বিষয়টি নিয়ে অফিসের ভেতরে-বাইরে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

খামার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে খামারের পুকুরপাড়ের ৫০টি টিনশেডের গাইড ওয়াল অপসারণ ও বিক্রির অভিযোগে পাম্প অপারেটর কাঞ্চন মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশে খামার ব্যবস্থাপকের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ঈশ্বরগঞ্জের সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মায়মুনা জাহান উল্লেখ করেন, কাঞ্চন মিয়া গাইড ওয়াল অপসারণ ও বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এতে পুকুরপাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং বিষয়টি চাকরি বিধিমালার পরিপন্থী। কেন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কাঞ্চন মিয়া বলেন, ‘পুকুরপাড়ের ৫০টি গাইড ওয়াল আমি খুলেছি ঠিকই, কিন্তু বিক্রি করিনি। এগুলো খামারের একটি কক্ষে সংরক্ষিত আছে। চাইলে সরেজমিনে এসে দেখতে পারেন। আমি কোনো অনিয়ম না করলে আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।’

এ বিষয়ে মায়মুনা জাহান বলেন, ‘খামার ব্যবস্থাপক শামীমা সুলতানা হজে থাকায় আমি অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলাম। ওই সময় কাঞ্চন মিয়া গাইড ওয়াল সরিয়ে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায় এবং তিনি বিষয়টি স্বীকারও করেছেন। তার জবাবসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব জেলা কর্তৃপক্ষের।’

অন্যদিকে খামার ব্যবস্থাপক শামীমা সুলতানা বলেন, ‘হজ শেষে ফিরে এসে বিষয়টি জেনেছি। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা না নিলে আমাদের করার কিছু নেই।’

কাঞ্চন মিয়ার বিরুদ্ধে অতীতেও নারীঘটিত কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ত্রিশালে কর্মরত অবস্থায় কাঞ্চন মিয়া আমার সঙ্গে কাজ করেছেন। পুরোনো অভিযোগ নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। তবে কিছু ঘটনা ঘটেছিল বলেই অভিযোগ উঠেছিল।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরাফাত উদ্দিন আহামেদ বলেন, ‘কাঞ্চন মিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা কার্যালয় থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাইনি। চিঠি পেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’