২৪ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮

ছাত্রশিবির নেতা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৪, পলাতক প্রধান আসামি মুকুল

গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের তিনজন  © সংগৃহীত

গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্রশিবির নেতা সাইফুল্লাহ বারী হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) রাতে নিহতের বাবা হাবিবুর রহমান বাদি হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে মামলার প্রধান আসামি ও বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া এখনও পলাতক রয়েছেন।

গ্রেপ্তার চারজন হলেন— পূর্ব বাটি গ্রামের আকবর খন্দকারের ছেলে মো. আশরাফ খন্দকার (৩৫), পূর্ব শিমুলতাইড় গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (৪৩), পূর্ব বাটি গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে মো. শাহ আলম (৪৫) ও চক দাতেয়া গ্রামের মৃত শওকত আলীর ছেলে মো. মোফাজ্জল হোসেন (৫৮)।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়াসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৪-১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে মুকুল মিয়াকে প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার ছোট ভাই পলাশসহ অন্যরা পলাতক রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২১ জুন) দুপুরে সাঘাটা উপজেলা চত্বরে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুল্লাহর সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচন নিয়ে মুকুল মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। স্থানীয় নেতাদের সমঝোতায় বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা হলে সবাই উপজেলা চত্বর থেকে চলে যান।

পরে উপজেলার চৌমাথায় বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাইফুল্লাহ ও কর্মী সালাউদ্দিন দাঁড়িয়ে ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, তার ছোট ভাই পলাশ, বোনারপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য রবিউল ইসলাম, যুবদল নেতা আশরাফ, মোনারুল ও জব্বারসহ ১০-১৩ জন ধারালো চাকু নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়।

হামলাকারীরা প্রথমে শিবির কর্মী সালাউদ্দিনের গলায় আঘাত করে। এ সময় ইউনিয়ন শিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী এগিয়ে আসলে তাকে ধাওয়া করে বোনারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনের রাস্তায় ফেলে গলায় ও শরীরে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। পরে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাইফুল্লাহকে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

একই হামলায় গুরুতর আহত সালাউদ্দিনকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার রাত ১টায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তার ফুসফুসে গভীর জখম রয়েছে বলে জানা গেছে।

সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পবিত্র কুমার জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকিদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। মামলার তদন্ত চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই বোনারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মুকুলকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে গাইবান্ধা জেলা যুবদল। তবে শুধু বহিষ্কার নয়, খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক ফেরদাউস সরকার রুম্মন বলেন, চারজন গ্রেপ্তার হলেও মূল আসামি মুকুল ও পলাশ পলাতক রয়েছে। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।