২৩ জুন ২০২৬, ১৯:১৬

গোসল করতে নেমে নিখোঁজ, বfল্কহেডের নিচে মিলল কিশোরের মরদেহ

নিহত মুসা  © সংগৃহীত

বরগুনার তালতলী উপজেলায় গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর মুসা (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় জেলে ও কোস্টগার্ড সদস্যরা একটি বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। সোমবার (২২ জুন) রাত ১১টার দিকে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের ইদুপাড়া গ্রামের ছকিনাখাল এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মুসা উপজেলার নিদ্রার চর এলাকার চাঁন মিয়া ও পাখি বেগমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বেলা ১১টার দিকে মুসা তার বন্ধু শিশু জালাল উদ্দিন রুমির সঙ্গে ছকিনাখালে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পর রুমি বাড়ি ফিরে এলেও মুসা আর ফেরেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করলে রুমি জানায়, গোসলের সময় মুসা পানিতে ডুব দেওয়ার পর আর ভেসে ওঠেনি। তবে সে ভেবেছিল, মুসা হয়তো অন্য কোনো পথ দিয়ে বাড়ি চলে গেছে।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে কোস্টগার্ড ও স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। স্থানীয় জেলে ফারুক, জামাল ও বেল্লালসহ কয়েকজন খালে জাল ফেলেন। একপর্যায়ে রাত ১১টার দিকে এমভি ইসলাম মোল্লা নামের একটি বালুবাহী জাহাজের নিচ থেকে মুসার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মুসার মা পাখি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘চার দিন আগে আমার ছেলে দুলালের ট্রলারে কাজ করতে যাওয়ার সময় আমার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোনটি সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল। তখন সে বলেছিল, মা, তোমার ফোনটা নিয়ে যাচ্ছি, কয়েকদিন পর ফিরে এসে দিয়ে দেব। কিন্তু আমার ছেলেটা আর ফিরে এল না। হঠাৎ খবর পেলাম, সে খালে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছে। এখন আমার বুক খালি হয়ে গেছে।'

তিনি আরও বলেন, `আমার সন্তানের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন হোক। প্রশাসনের কাছে আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও সত্য উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।'

স্থানীয়দের ধারণা, পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে মুসা জাহাজটির নিচে আটকে পড়তে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তালতলী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাগর ভদ্র জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।