২২ জুন ২০২৬, ২১:০৬

ক্যালকুলেটরে ‘মাপজোক’ করে ঘুষ চাইলেন কর্মকর্তা

দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়  © সংগৃহীত

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ক্যালকুলেটরে হিসাব কষে ১৫ শতাংশ হারে কমিশন বা ঘুষ নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি পিআইও-র কার্যালয়ে প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে এই ঘুষের টাকা লেনদেন ও দর-কষাকষির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, পিআইও বাবুল চন্দ্র রায় তার দপ্তরে বসে কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে প্রকল্পের বরাদ্দ নিয়ে কথা বলছেন এবং ক্যালকুলেটর চেপে ঘুষের টাকার অঙ্ক নির্ধারণ করছেন।

ভিডিওর কথোপকথনে শোনা যায়, পিআইও এক ইউপি সদস্যকে হিসাব দেখিয়ে বলছেন, ‘৩২ হাজার টাকা করে ৮ টন গম হলে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর ১৫ শতাংশ দিলে ৩৮ হাজার টাকা হয়।’ এ সময় সংশ্লিষ্ট সদস্য কমিশনের টাকা কিছুটা কম নেওয়ার অনুরোধ জানালে পিআইও ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, ‘মেম্বারদের কোনো দিন লাভ হয় না। আমি এতদিন পিআইও হিসেবে কাজ করছি, কোনো মেম্বারকে বলতে শুনিনি যে তার লাভ হয়েছে।’

ভিডিওর অন্য অংশে, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকার একটি টিআর প্রকল্পের বিপরীতে পিআইও-কে ক্যালকুলেটর চেপে ২৪ হাজার টাকা দাবি করতে দেখা যায়। ওই সময় ইউপি সদস্য শতভাগ কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানালে বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, ‘আগে আপনাদের পরিষদে আসতে দেয়নি, এরপর থেকে আপনারাও আসতে দেবেন না, শোধবোধ।’ এ ছাড়া আরেকটি ১ লাখ ২০ হাজার টাকার প্রকল্পের বিপরীতে ১৮ হাজার টাকা এবং একাধিক প্রকল্প মিলিয়ে অন্য এক ব্যক্তির কাছে এককালীন ৫৬ হাজার টাকা দাবি করার দৃশ্যও ভিডিওতে স্পষ্ট ধরা পড়েছে। ভিডিওর শেষভাগে মেম্বারদের টাকা গুনে ফাইলের সামনে রাখতে দেখা যায়।

তবে এই ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়। তার দাবি, ‘ওরা মাঠপর্যায়ে কোনো কাজ না করেই বিল তুলে নিতে এসেছিল। সে কারণেই কাজের বাধ্যবাধকতা নিয়ে আমাদের মধ্যে এ ধরনের কিছু কথাবার্তা হয়েছে, কোনো অবৈধ লেনদেন হয়নি।’

এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা জানান, ভিডিওটি প্রশাসনের নজরে আসার পরপরই বিষয়টি জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। এই অনিয়মের বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।