২০ জুন ২০২৬, ১৪:১৫

সেই যমজ শিশুর পাশে মহেশপুরের ইউএনও

যমজ মেয়ে শিশুর পরিবারকে উপহারসামগ্রী তুলে দিচ্ছেন ইউএনও মো. সাজ্জাদ হোসেন  © সংগৃহীত

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় যমজ মেয়ে জন্ম দেওয়ার অভিযোগে স্বামীর তালাকের শিকার হওয়া এক অসহায় মায়ের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজ্জাদ হোসেন। মানবিক এ উদ্যোগ এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

জানা গেছে, মহেশপুর উপজেলার পুরাতন কোলা গ্রামের রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে দেড় বছর আগে পারিবারিকভাবে রীনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর রীনা গর্ভবতী হলে আল্ট্রাসনোগ্রাফি পরীক্ষায় জানা যায়, তার গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। এর পর থেকেই স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের আচরণ পরিবর্তন হতে থাকে বলে অভিযোগ করেন তিনি। গত ১১ ফেব্রুয়ারি রীনা খাতুন যমজ কন্যাশিশু মেহেরীন ও নওরীনের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পর তার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং গত ২৫ এপ্রিল আইনগতভাবে তালাকনামা পাঠানো হয়।

ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেনের নজরে আসে। খবরটি দেখার পর কোনো আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা না করে তিনি সরাসরি শিশু দুটির পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় উপহারসামগ্রী প্রদান করেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।

স্থানীয়রা জানান, একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শনের এই দৃষ্টান্ত সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, ইউএনও সাজ্জাদ হোসেনের এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে প্রশাসনের দায়িত্ব শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হয়ে পাশে দাঁড়ানোও একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এদিকে এলাকাবাসী যমজ শিশু মেহেরীন ও নওরীনের সুস্থ, সুন্দর ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মানবিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে মহেশপুর উপজেলা প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও শ্রদ্ধা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।