অর্থের অভাবে পলিথিন সেলাই করে আর্জেন্টিনার পতাকা বানাল শিশু, পাশে দাঁড়াল ফ্যান ক্লাব
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনায় চারদিকে এখন উড়ছে প্রিয় দলগুলোর পতাকা। একই ইচ্ছা হয়েছিল ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবিরেরও। কিন্তু অর্থের অভাবে আর্জেন্টিনার একটি পতাকা কিনতে পারেনি সে। প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশে সাদা ও আকাশি রঙের পলিথিন জুড়ে বানিয়ে নেয় আর্জেন্টিনার পতাকা। পরে সেটি বাঁশের কঞ্চিতে বেঁধে উড়ায় বাড়ির উঠানে।
ঘটনাটি জানাজানি হলে আবিরের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেয় ‘আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাব ঝিনাইদহ’। বুধবার বেলা ১১টার দিকে সংগঠনটির সদস্যরা আবিরের বাড়িতে গিয়ে তাকে আর্জেন্টিনার নতুন একটি পতাকা, জার্সি ও একটি ফুটবল উপহার দেন। উপহার হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে শিশুটি।
আবির ঝিনাইদহ পৌর এলাকার ভুটিয়ারগাতী উত্তরপাড়ার বাসিন্দা আলিউল ইসলামের ছেলে। সে ঝিনাইদহ উজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বকাপ উপলক্ষে এলাকায় বিভিন্ন দেশের সমর্থকেরা নিজ নিজ দলের পতাকা উড়িয়েছেন। সবার বাড়িতে পতাকা দেখে আবিরেরও ইচ্ছা হয়েছিল আর্জেন্টিনার পতাকা ওড়ানোর। কিন্তু পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি।
আবিরের বাবা আলিউল ইসলাম শহরের একটি গ্রিল কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। অভাব-অনটনের সংসারে স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে কোনোমতে চলতে হয় তাকে। ফলে ছেলের জন্য পতাকা ও জার্সি কেনা সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় বাড়িতে থাকা সাদা ও আকাশি রঙের পলিথিন জোড়া লাগিয়ে নিজেই তৈরি করে আর্জেন্টিনার পতাকা। পরে সেটি বাঁশের কঞ্চিতে বেঁধে বাড়ির উঠানে উড়িয়ে দেয়। বিষয়টি প্রথমে প্রতিবেশীদের নজরে আসে এবং পরে তা পৌঁছে যায় আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাব ঝিনাইদহের সদস্যদের কাছে।
প্রতিবেশী খালিদ হাসান জীবন বলেন, আবির একটি পতাকা কিনতে না পেরে নিজেই পলিথিন দিয়ে পতাকা বানিয়েছে। বিষয়টি জানার পর খুব খারাপ লাগে। পরে আমি আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের সদস্যদের বিষয়টি জানাই।
আবিরের বাবা আলিউল ইসলাম বলেন, সংসারে অনেক অভাব। ছেলেকে পতাকা ও জার্সি কিনে দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। যারা আমার ছেলের মুখে হাসি ফুটিয়েছে, তাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।
মেসির খেলা ভালো লাগে উল্লেখ করে আবির বলে, সবাই যখন পতাকা উড়িয়েছে, তখন আমারও ইচ্ছা হয়েছিল। বাবা কিনে দিতে পারেননি, তাই নিজেই পলিথিন দিয়ে পতাকা বানিয়েছিলাম। এখন নতুন পতাকা, জার্সি আর ফুটবল পেয়ে খুব ভালো লাগছে।
আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাব ঝিনাইদহের অ্যাডমিন শাহীনুর আলম বলেন, শিশুটির আর্জেন্টিনার প্রতি ভালোবাসা ও আবেগ আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। সেই ভালোবাসার প্রতি সম্মান জানাতেই আমরা তার জন্য সামান্য কিছু উপহার নিয়ে গিয়েছিলাম। ওর হাসিমুখ দেখে আমাদের ভালো লেগেছে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, খেলাধুলার প্রতি একটি শিশুর ভালোবাসা এবং সেই ভালোবাসার প্রতি সমাজের ইতিবাচক সাড়া মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।